প্রায় দেড় বছর পর, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে, খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে ৭-৮ জন নেতা ও অঙ্গসংগঠনের কর্মী শহীদ হাদিস পার্কের সংলগ্ন শঙ্খ মার্কেটের প্রধান গেটের তালা খুলে নিচের মেইন গেটের দোতলায় প্রবেশ করেন।
নেতাকর্মীরা গেটের তালা খুলে দোতলায় পৌঁছানোর পর, শ্রী শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতিকৃতির সামনে ফুলের মালা অর্পণ করেন। এই কর্মসূচি কার্যালয়ের প্রধান প্রবেশদ্বার বন্ধ থাকলেও, নেতাদের উপস্থিতি এবং ফুল অর্পণ করা স্থানীয় নজরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
প্রবেশকারী নেতাদের মধ্যে জাহাঙ্গীর হোসেন নামের একজন নিজেকে নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা বলে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, “রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে। আমরা নতুন সরকারকে বলতে চাই- আমরা সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি করতে চাই। আশা করি আমাদের রাজনীতি করার অধিকার ফিরে পাবো।” তার বক্তব্যে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধারের ইচ্ছা প্রকাশ পায়।
খুলনা সদর থানার ওসি কবীর হোসেন ঘটনাটি জানার পর জানান, “এই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” তিনি উল্লেখ করেন, প্রবেশের সময় গেটের তালা ভাঙা এবং কার্যালয়ের ভিতরে অননুমোদিত কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় তদন্ত চালু করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায়, ২০২৪ সালের ৪ ও ৫ আগস্ট, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর, খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা আগুন জ্বালিয়ে বড় ক্ষতি করে। সেই ঘটনার পর থেকে কার্যালয় বন্ধ ছিল এবং কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম সেখানে অনুষ্ঠিত হয়নি।
নেতাকর্মীদের এই প্রবেশের পেছনে নির্বাচনী সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত কৌশলগত উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই ধরনের পদক্ষেপ পার্টির ভিত্তি পুনরুজ্জীবিত করা এবং ভোটারদের কাছে উপস্থিতি প্রকাশের একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অধিকন্তু, আইনগত প্রক্রিয়ার ফলাফল এবং পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবেশে প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়। নির্বাচনের ফলাফল নির্ভর করবে এই ধরনের কর্মকাণ্ডের জনমত গঠনে কতটা প্রভাব ফেলবে এবং পার্টির নেতৃত্ব কীভাবে এই ঘটনাকে পরিচালনা করে তা নির্ধারণ করবে।



