রবিবার বিকেল পাঁচটায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ির সামনে এক নারী জাতীয় পতাকা তুলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। নির্বাচনের তিন দিন পর এই কর্মটি করা হয়, ফলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে।
নারীটি আজিমপুর থেকে এসে তার সঙ্গে একটি শিশুকে নিয়ে বাড়ির সামনে দাঁড়ায়। তিনি পতাকা উঁচু করে ধরে রাখেন এবং উপস্থিতদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যে তাদেরকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কোনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। উপস্থিতদেরকে হুমকি না দিয়ে স্থানান্তর করা হয়।
এটি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তিন দিন পরের ঘটনা; নির্বাচনে বিএনপি ২০৯ আসন জিতে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। তাদের একসময়ের মিত্র জামায়াত-এ-ইসলামি ৬৮ আসন পেয়ে বিরোধী দলে যুক্ত হয়েছে।
নির্বাচনের দুই দিন আগে গুলিস্তানে কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একটি দল জাতীয় পতাকা উড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান জানায়। ঐ দলটি সাত-আটজনের ছিল।
পরের দিন একই নারী এবং কয়েকজন অন্য ব্যক্তি ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়িতে উপস্থিত হন। তারা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে পতাকা তুলে রাখে।
এই বাড়িটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের দিন আগুনে পুড়েছিল এবং পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি এক্সক্যাভেটর ও ক্রেন দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশের সদস্যরা মাইক নেয়া অবস্থায় নারীর হাত থেকে মাইক ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে সেখান থেকে সরে যেতে নির্দেশ দেয়। একই সময়ে তিনি জিজ্ঞাসা করেন, কেন সেখানে দাঁড়ানো যাবে না।
নারীটি পতাকা তুলে ধরে বলেন, “বঙ্গবন্ধু দেশের স্বাধীনতা, পতাকা এনে দিসেন” এবং তার বক্তব্যের মাধ্যমে স্বাধীনতার স্মরণ করিয়ে দেন।
পত্রিকায় উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি নিজের নাম তাহমিনা আক্তার এবং আজিমপুর থেকে আসা জানান। তার পরিচয় ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা হয়।
ধানমন্ডি বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার জিসানুল হক জানান, “তারা সেখানে এলে ‘বিক্ষুব্ধ জনতা’ তাদের ওপর হামলা চালায় এবং মারধর করে। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দেয়।” এই বিবৃতি থেকে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জনসাধারণের উত্তেজনা স্পষ্ট হয়।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেন, জাতীয় পতাকার মাধ্যমে করা এই ধরনের প্রকাশনা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং বিরোধী দলগুলোকে সমর্থন বাড়াতে ব্যবহার করা হতে পারে। তবে সরকার নিরাপত্তা সংক্রান্ত কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।
অধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংবেদনশীল স্থানে সমাবেশে সীমাবদ্ধতা আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ভবিষ্যতে অনুরূপ কর্মে দ্রুত হস্তক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সংসদের নতুন সেশন শীঘ্রই শুরু হওয়ায় এই ঘটনা রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে জাতীয় চিহ্নের ব্যবহার এবং নিরাপত্তা নীতির ওপর বিতর্কের সূচনা হতে পারে।



