কমলালয় জেলার লালমাই উপজেলায় বাগমারা রেল গেটের কাছাকাছি আজ সকাল প্রায় ৭:৩০ টায় একটি ট্রেনের ধাক্কায় ৩২ বছর বয়সী মোহিন উদ্দিনের মৃত্যু ঘটেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত রেলওয়ে পুলিশ অনুসন্ধান করে জানায়, ট্রেনের গতি বেশি থাকায় দুর্ঘটনা ঘটেছে।
মোহিন উদ্দিন, চেংহাটা গ্রাম, শিলমুড়ি ইউনিয়ন, বারুড়া উপজেলার বাসিন্দা, অটো রিকশা চালক হিসেবে কাজ করতেন। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, তিনি সকালবেলা রেললাইনটির পাশে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন এবং ট্রেনের পথে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ট্রেনের দ্রুত গতি তাকে আঘাত করে, ফলে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
কমলালয় রেলওয়ে পুলিশ আউটপোস্টের উপ-ইনস্পেক্টর সোহরাব হোসেনের মতে, দুর্ঘটনা ঘটার সময় ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দ্রুত চলছিল। রেললাইনটির নিরাপত্তা চিহ্ন ও বাধা সত্ত্বেও, মোহিন উদ্দিন রেলপথের খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে ছিলেন, যা তার মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর রেলওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে, তা কমলালয় মেডিকেল কলেজে পাঠায় অটোফি (মৃতদেহ পরীক্ষা) করার জন্য। অটোফি শেষে দেহের অবস্থা নিশ্চিত করা হবে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।
উল্লেখযোগ্য যে, রেলওয়ে পুলিশ ইতিমধ্যে মৃতদেহের হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং পরিবারকে দেহ প্রদান করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মৃতদেহের হস্তান্তরের সময়সূচি ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে রেলওয়ে পুলিশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে।
এই ধরনের রেল দুর্ঘটনা রেলওয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। স্থানীয় প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে রেললাইন পারাপারের সময় সতর্কতা বাড়াতে এবং নিরাপত্তা চিহ্নের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
দুর্ঘটনা সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া চালু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তে রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় পুলিশ একসাথে কাজ করছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে রেললাইন পারাপারের নিয়ম মেনে চলা এবং ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব পুনরায় জোর দেওয়া হবে।



