কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রবিবার ভোরে পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে প্রায় ৫৯ লাখ ৮০ হাজার টাকার মূল্যের অবৈধ ভারতীয় শাড়ি ও সিগারেট জব্দ করেছে। এই জব্দের ফলে কোনো সন্দেহভাজন গ্রেফতার করা যায়নি।
অভিযানটি কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)-এর অধীনে কটকবাজার পোস্টের একটি বিশেষ টহল দল পরিচালনা করে সীমান্তবর্তী এলাকায় চালায়। টহল দলটি বর্ডার গার্ডের নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে গৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে গতি বাড়িয়ে কাজ করে।
কোম্পানি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ, যিনি কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের প্রধান, জানিয়েছেন যে, অভিযানের সময় সীমান্তে বড় পরিমাণে শাড়ি ও সিগারেট পাওয়া গিয়েছিল, তবে চোরাচালানকারীরা বর্ডার গার্ডের উপস্থিতি লক্ষ্য করে দ্রুত পণ্য ফেলে পালিয়ে যায়। এ কারণে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
জব্দকৃত পণ্যগুলোকে বিধি অনুসারে তালিকাভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। বর্ডার গার্ডের মতে, এই পণ্যগুলো অবৈধভাবে দেশের সীমান্তে প্রবেশ করানো হয়েছিল এবং সেগুলোকে আইনগতভাবে নথিভুক্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সীমান্তে চোরাচালান, মাদক পাচার এবং অন্যান্য অবৈধ পণ্যের প্রবেশ রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে তুলেছে। নিয়মিত টহল, তথ্যভিত্তিক অভিযান এবং বিশেষ অপারেশন চালিয়ে চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অভিযানের পর, বর্ডার গার্ডের কর্মকর্তারা স্থানীয় কাস্টমস ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে জব্দকৃত পণ্যের বিশদ তালিকা প্রস্তুত করছে। এই তালিকায় শাড়ি, সিগারেটের পরিমাণ, মূল্য এবং উৎপত্তি দেশসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বর্ডার গার্ডের উচ্চতর কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, সীমান্তে অবৈধ পণ্যের প্রবাহ রোধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং সমন্বিত অপারেশন অপরিহার্য। ভবিষ্যতে তথ্যভিত্তিক টহল ও বিশেষ অভিযান বাড়িয়ে চোরাচালান নেটওয়ার্ককে ধ্বংস করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই জব্দের মাধ্যমে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সীমান্ত নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। জব্দকৃত পণ্যের যথাযথ হস্তান্তর ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বর্ডার গার্ডের এই পদক্ষেপটি পূর্বে কুড়িগ্রাম ও অন্যান্য সীমান্তে ঘটিত বড় আকারের জব্দের ধারাবাহিকতা, যেখানে একই ধরনের অবৈধ ভারতীয় পণ্য বহু কোটি টাকার মূল্যে জব্দ হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা সীমান্তে অবৈধ বাণিজ্য দমন এবং দেশের আর্থিক ক্ষতি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সর্বশেষে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ জোর দিয়ে বলেছে যে, সীমান্তে অবৈধ পণ্যের প্রবাহ রোধে গৃহীত প্রতিটি পদক্ষেপের পেছনে দেশের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্য রয়েছে। ভবিষ্যতে তথ্যভিত্তিক, সমন্বিত এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল অপারেশন চালিয়ে চোরাচালান নেটওয়ার্ককে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।



