মাদারীপুর-৩ (কালকিনি-ডাসার ও সদর আংশিক) আসনের সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার, যাকে সাধারণত খোকন তালুকদার বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদের সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে। তার নামের উল্লেখ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অভ্যন্তরে তীব্রভাবে বাড়ছে, যা ভবিষ্যৎ সরকারের গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
২০১৯ সালের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে খোকন তালুকদার বিশাল ভোটের ব্যবধানে জামাতের প্রার্থীকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্যের পদ অর্জন করেন। এই জয় তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, কারণ পূর্বে ২০১৮ সালে তিনি একই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়লাভ করতে পারেননি।
বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহতথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবে বর্তমানে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্র রাজনীতিতে উত্থান শুরু করে তিনি একসময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে পার্টির সংগঠনগত কাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ করে তুলেছে।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেন এবং বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে আদালতে হাজির হন। দীর্ঘ সময় তিনি গুমের শিকার ছিলেন, তবে রাজনৈতিক দমনে ভুগলেও রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা বজায় রেখেছেন। তার এই সংগ্রাম পার্টির মধ্যে তাকে একটি দৃঢ় ও দৃশ্যমান নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
আওয়ামী লীগ শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মাদারীপুরের বিভিন্ন এলাকায় তিনি দলকে সংগঠিত করতে এবং তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করে তিনি পার্টির উপস্থিতি বাড়াতে এবং ভোটার ভিত্তি দৃঢ় করতে সচেষ্ট।
প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন এবং মাদারীপুরের প্রতিটি ইউনিয়নে কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিনি পার্টির নীতি ও পরিকল্পনা কার্যকর করার চেষ্টা করছেন। এই উদ্যোগগুলো স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে এবং পার্টির কাজের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করে।
বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছেন যে, তিনি দলের হাইকমান্ডের আস্থাভাজন নেতাদের মধ্যে অন্যতম এবং তার নাম মন্ত্রিপরিষদের প্রাথমিক আলোচনায় উঠে এসেছে। অতীতে তিনি বিএনপি ঘোষিত মাদারীপুরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বড় শোডাউন পরিচালনা করে সরকারের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায়ও নাম উঠে আসে।
উল্লেখযোগ্য যে, সম্ভাব্য মন্ত্রিপরিষদে তার অন্তর্ভুক্তি পূর্ণমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে নিয়োগের সম্ভাবনা উন্মোচিত করেছে। যদি তিনি এই পদে নিযুক্ত হন, তবে পার্টির নীতি বাস্তবায়নে এবং তার নিজস্ব নির্বাচনী ভিত্তি শক্তিশালী করতে নতুন দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে। ভবিষ্যতে তার ভূমিকা পার্টির কৌশলগত অবস্থান এবং জাতীয় নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।



