দ্বিতীয় দশকের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ১১ দলীয় জোটের নেতারা ফলাফল ‘ঝটপট’ভাবে প্রকাশিত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন। এ অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় আজ বিকেলে ঢাকার আগারগাঁও-এ ইলেকশন কমিশনের সদর দফতরে উপস্থিত কমিশনার অন্বরুল ইসলাম সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে ফলাফল সময়মতো প্রস্তুত ও প্রকাশ করা হয়েছে।
কমিশনারের মতে, ফলাফল প্রস্তুতিতে কোনো তাড়াহুড়ো করা হয়নি; পুরো প্রক্রিয়া বিধি অনুসারে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গেজেটের খসড়া তৈরির জন্য কমিশনের দল ও সেক্রেটারিয়েট রাতদিন কাজ করেছে এবং নির্ধারিত সময়ে তা প্রকাশিত হয়েছে।
১৩তম সংসদীয় নির্বাচন ও গণভোটের সামগ্রিক পরিচালনাকে তিনি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সফল বলে মূল্যায়ন করেছেন। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও দ্রুত কাজের প্রশংসা করে তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের মসৃণ নির্বাচন কেবল ঈশ্বরের সাহায্যেই সম্ভব হয়েছে।
ফলাফলের শতাংশ, পরিচালনা এবং বিভিন্ন স্তরের সহযোগিতায় কমিশন সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, ফলাফল প্রকাশের পর যে কোনো অভিযোগ দ্রুত সমাধানের জন্য কমিশন সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।
নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য কমিশনকে পৌঁছায়নি। সংবিধানের ধারা ১৪৮ অনুযায়ী, যদি স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার ফলাফল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে শপথ না নেয়, তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার তিন দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণের দায়িত্ব নেবেন।
নির্বাচন দিবসের সময় উত্থাপিত অভিযোগগুলো সম্পর্কে কমিশন ১০০ শতাংশ সমাধান করার চেষ্টা করেছে বলে জানায়। যদিও কিছু অভিযোগের সমাধান ত্বরান্বিত হয়েছে, তবে সকল অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড এখনো সম্পন্ন হয়নি।
শেরপুর-৩ নির্বাচনী এলাকা থেকে জামায়াতের প্রার্থীর মৃত্যুর পর সেই নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। নতুন ভোটের তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি এবং কমিশন ভবিষ্যতে যথাযথ সময়ে পুনরায় নির্বাচন পরিচালনা করবে।
একটি গণভোটের ফলাফল ২৪৪ শতাংশ দেখানোর রিপোর্টে কমিশন অস্বাভাবিকতা স্বীকার করেছে। মিডিয়ায় প্রকাশিত এই সংখ্যার ভুলের কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।
এই ঘটনাগুলো রাজনৈতিক পরিবেশে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। শপথ গ্রহণের দেরি ও শেরপুর-৩-এ পুনরায় ভোটের সময়সূচি নির্ধারণের প্রক্রিয়া সরকার গঠনকে প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে, ফলাফল সংক্রান্ত অস্বাভাবিকতা নিয়ে চলমান তদন্তের ফলাফল নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা সম্পর্কে জনমত গঠন করবে।
ইলেকশন কমিশন সব ধরণের অভিযোগ ও ত্রুটি দ্রুত সমাধান করে নির্বাচনকে বৈধতা প্রদান করার লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত ত্রুটি মোকাবিলায় অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।



