অকুনা কুক, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন পররাষ্ট্র সেবা কর্মকর্তা এবং আফ্রিকা‑সংক্রান্ত নীতি বিশেষজ্ঞ, সম্প্রতি নেক্সট ন্যারেটিভ আফ্রিকা ফান্ড (NNAF) চালু করেছেন। এই ফান্ডের লক্ষ্য হল আফ্রিকান চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রকল্পে মোট ৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা, যাতে মহাদেশের সৃজনশীল কন্টেন্টকে বৈশ্বিক বাজারে তুলে ধরা যায়।
কুকের ক্যারিয়ার শুরু হয় চীনে, দক্ষিণ আফ্রিকায় এবং বাগদাদে পররাষ্ট্র সেবার দায়িত্বে, যেখানে তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা বিষয়ক কাজ করেন। পরবর্তীতে তিনি ওয়াশিংটন ফিরে এসে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের অধীনে ইউ‑আফ্রিকা নীতি গঠনে অংশ নেন, যা তাকে আন্তর্জাতিক নীতি ও বিনোদন শিল্পের সংযোগস্থলে নিয়ে আসে।
ওবামা প্রশাসনের সময়, কুক একটি উদ্যোগে যুক্ত হন যেখানে নীতি বিষয়গুলোকে মূলধারার টেলিভিশন শোতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় তিনি জেরিম্যান্ডারিং, ভোটার বিভাজন ইত্যাদি জটিল বিষয়কে জনপ্রিয় ধারায় রূপান্তর করতে সহায়তা করেন, যা দর্শকদের নীতি সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
বিশেষ করে শোডা রাইমসের ‘Scandal’ এবং কেনিয়া ব্যারিসের ‘Black-ish’ সিরিজে গেরিম্যান্ডারিং ও সামাজিক ন্যায়বিচার সংক্রান্ত উপকথা যুক্ত করা হয়, যা কুকের নীতি‑বিনোদন সমন্বয়ের ফলাফল। এই ধরনের কাজের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে বাস্তব নীতি বিষয়গুলোকে বিনোদনমূলক ফরম্যাটে উপস্থাপন করা যায়, যাতে বৃহত্তর দর্শকগোষ্ঠীকে আকৃষ্ট করা যায়।
সরকারে ফিরে আসার পর, কুক আফ্রিকান মিডিয়া শিল্পের দ্রুত বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দেন এবং বিনোদন রপ্তানিকে কৌশলগত সম্পদ হিসেবে পুনঃশ্রেণীবদ্ধ করার পক্ষে সওয়াল করেন। তিনি যুক্তি দেন যে সফট পাওয়ার বাড়াতে সাংস্কৃতিক পণ্যগুলোকে কূটনৈতিক সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করা উচিত, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সহায়তা করবে।
আফ্রিকাকে বিশ্বের সবচেয়ে তরুণ মহাদেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়; মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশেরও বেশি ২৫ বছরের নিচে। এই বিশাল যুবশক্তি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক মিডিয়া ভোগের ধরণ গঠন করবে, পাশাপাশি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়াবে। কুকের মতে, এই ডেমোগ্রাফিক প্রবণতা সঠিক বিনিয়োগের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী মিডিয়া বাজারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কুক সরকার ত্যাগের পর নেক্সট ন্যারেটিভ আফ্রিকা ফান্ড প্রতিষ্ঠা করেন। ফান্ডটি একটি হাইব্রিড মডেল, যেখানে ৪০ মিলিয়ন ডলার বাণিজ্যিক ইকুইটি এবং ১০ মিলিয়ন ডলার অলাভজনক উন্নয়ন তহবিল অন্তর্ভুক্ত। মূল লক্ষ্য হল মহাদেশের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রকল্পে সরাসরি মূলধন সরবরাহ করা, পাশাপাশি সৃষ্টিকর্তাদের আইপি অধিকার সুরক্ষিত করা।
ফান্ডের কাঠামো বিশেষভাবে নিম্নলিখিত কাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধান করতে চায়: উন্নয়ন পর্যায়ে পর্যাপ্ত মূলধনের অভাব, সৃষ্টিকর্তাদের বৌদ্ধিক সম্পত্তি অধিকার সীমিত থাকা, এবং আন্তর্জাতিক স্টুডিওগুলো আফ্রিকান কন্টেন্টকে পার্শ্বিক হিসেবে বিবেচনা করা। এই বাধাগুলো দূর করে ফান্ডটি আফ্রিকান গল্পকে বৈশ্বিক মঞ্চে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
কুকের মতে, আফ্রিকান গল্পের বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের বিষয় নয়; বরং প্রশ্ন হল, এই গল্পগুলো যখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনপ্রিয়তা পাবে, তখন তা কার মালিকানায় থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে সৃষ্টিকর্তা ও স্থানীয় উৎপাদন সংস্থাগুলোকে মালিকানা ও মুনাফার অধিকাংশ ভাগ নিশ্চিত করা উচিত, যাতে টেকসই শিল্প গড়ে ওঠে।
পাঠকরা যদি আফ্রিকান চলচ্চিত্রের উত্থানকে সমর্থন করতে চান, তবে স্থানীয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে নতুন শিরোনামগুলো অনুসন্ধান করা, অথবা ফান্ডের মতো উদ্যোগে স্বেচ্ছায় দান করা একটি কার্যকর উপায় হতে পারে। এছাড়া, আফ্রিকান সৃষ্টিকর্তাদের কাজকে সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করে তাদের দৃশ্যমানতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। এভাবে সমষ্টিগত প্রচেষ্টা আফ্রিকান কণ্ঠকে বিশ্বমঞ্চে আরও দৃঢ় করে তুলবে।



