প্রেস সচিব শফিকুল আলম রোববার বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, দেশের সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের পর সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো হামলা বা নির্যাতনের ঘটনা রেকর্ড করা যায়নি। তিনি এই তথ্যকে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে তুলে ধরেছেন।
ব্রিফিংটি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন। শফিকুল আলম সভার শেষে উপস্থিত সকলকে নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশের প্রশংসা জানিয়ে, ভবিষ্যতে এধরনের শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রেস সচিবের মতে, এই নির্বাচনটি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমন একটি নির্বাচন যেখানে ভোটের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর কোনো শারীরিক বা মানসিক আক্রমণ ঘটেনি। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বের নির্বাচনে গুম-খুনের ঘটনা এবং অন্যান্য সহিংসতার শিকার হওয়া দলগুলো এখনো রাজনৈতিক মঞ্চে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
এছাড়া, শফিকুল আলম জোর দিয়ে বলেন, এই ফলাফলকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের একটি মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের প্রতিফলন।
প্রেস সচিব সাংবাদিক বন্ধুরা এই বিষয়টি নিবিড়ভাবে অনুসরণ করার অনুরোধ করেন, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দ্রুত সনাক্ত করা যায়। তিনি মিডিয়ার ভূমিকা তুলে ধরে, জনমত গঠন ও তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সাংবাদিকদের দায়িত্বের ওপর জোর দেন।
ব্রিফিংয়ে শফিকুল আলম উপদেষ্টা পরিষদকে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে, নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পরিষদের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের পেশাদারিত্বই এই ফলাফলের মূল কারণ।
প্রেস সচিব আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পর পুলিশ বাহিনী আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধার করেছে এবং জনসাধারণের বিশ্বাস পুনরায় অর্জন করেছে। তিনি বলছেন, নিরাপত্তা সংস্থার এই ইতিবাচক পরিবর্তন দেশের সামগ্রিক শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতায় অবদান রাখবে।
ধর্ষণ সংক্রান্ত ঘটনার প্রসঙ্গে শফিকুল আলম জানান, সরকার দ্রুত একটি বিশেষ কমিটি গঠন করবে, যা এই ধরনের অপরাধের সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অপরাধের শিকারদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেশের সব বিদেশি মন্ত্রীর পাশাপাশি কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরও অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, এ বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন। এই আন্তর্জাতিক উপস্থিতি দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের দৃঢ়তা এবং নতুন সরকারের বৈশ্বিক স্বীকৃতির ইঙ্গিত দেয়।
শফিকুল আলমের মন্তব্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, সংখ্যালঘু নির্যাতনের শূন্যতা এবং নিরাপত্তা সংস্থার আত্মবিশ্বাসের পুনর্গঠন দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়াবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নে সহায়



