দিল্লি থেকে ওম বিরলা, লোকসভা স্পিকার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিএনপি শাসনের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের সরকারী প্রতিনিধিত্বের দায়িত্বে নিয়োজিত হয়েছেন। বিএনপি, যার চেয়ারপার্সন তারেক রহমান, ঐ দিন নতুন সরকার গঠন করবে বলে জানানো হয়েছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ এই তথ্য প্রকাশ করে দেশের দু’দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওম বিরলার অংশগ্রহণ দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতীক এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ভারতের অটল প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করে। এই পদক্ষেপকে উভয় দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্মান ও ঐতিহাসিক বন্ধনের ধারাবাহিকতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
বিএনপি শাসনের গৃহীতের পর ভারতীয় সরকার বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকারকে স্বাগত জানিয়েছে। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে গৃহীত সরকার জনগণের ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে এবং দুই দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।
দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ শপথ অনুষ্ঠানে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শারিফ এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্তত এগারোটি শীর্ষ নেতাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এছাড়া চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটানের নেতাদেরও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নরেন্দ্র মোদি এই সময়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া “ইন্ডিয়া-এআই ইম্প্যাক্ট সামিট”-এ অংশগ্রহণের জন্য ব্যস্ত থাকবেন, যা ১৬ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। তাই তিনি শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারবেন না এবং ওম বিরলা তার পরিবর্তে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
অন্যান্য আমন্ত্রিত নেতাদের উপস্থিতি সম্পর্কে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দূতাবাসের সূত্রে বলা হয়েছে, আমন্ত্রণের পর কিছু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নেতার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে, তবে শপথ অনুষ্ঠানের তারিখের কাছাকাছি সময়ে তাদের সময়সূচি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা বাকি।
এই প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে ভারতীয় সরকার বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বীকৃতি এবং দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের উপস্থিতি উভয় দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা, বাণিজ্যিক বিনিময় ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিএনপি শাসনের গৃহীতের ফলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দৃশ্যপটে পরিবর্তন আসবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদিও এই প্রতিবেদনে কোনো মতামত বা অনুমান অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। মূল বিষয় হল, শপথ অনুষ্ঠানটি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করতে পারে।
শপথ অনুষ্ঠানে ওম বিরলার অংশগ্রহণের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রোটোকল ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় করছে। একই সঙ্গে, বাংলাদেশ সরকারও অতিথি দেশগুলোর প্রতিনিধিদের স্বাগত জানাতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও প্রোটোকলিক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে।
শপথ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর দুই দেশের নেতারা পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের কথা আলোচনা হতে পারে। এই বৈঠকগুলো ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



