মহা শিবরাত্রির শুভেচ্ছা জানিয়ে সঞ্জয় লীলা ভান্সালি এবং কেতন মেহতার যৌথ প্রকল্পের প্রথম পোস্টার আজ প্রকাশিত হয়েছে। এই পোস্টারটি ভারতীয় চলচ্চিত্রের দুই বিশিষ্ট স্রষ্টার নতুন ঐতিহাসিক ছবির সূচনাকে চিহ্নিত করে। ছবির নাম ‘জয় সোমনাথ’, যা ২০২৭ সালে বড় পর্দায় আসার কথা।
ভান্সালি এবং মেহতা, দুজনেই ভারতীয় সিনেমার মঞ্চে শক্তিশালী স্বরূপ হিসেবে স্বীকৃত, এবার একসাথে কাজ করছেন। ভান্সালি তার বিশাল স্কেল ও রঙিন দৃষ্টিকোণ দিয়ে পরিচিত, আর মেহতা সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয়কে সাহসিকতার সঙ্গে উপস্থাপন করার জন্য খ্যাত। দুজনের এই সহযোগিতা শিল্প জগতের মধ্যে নতুন দৃষ্টিকোণ আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘জয় সোমনাথ’ ছবিটি ১০২৫-১০২৬ খ্রিস্টাব্দে ঘাজনীর মহমুদের দ্বারা সোমনাথ মন্দিরের আক্রমণ ও ধ্বংসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে। এই আক্রমণটি ভারতের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত, এবং এই বছর সেই ঘটনার এক হাজারতম বার্ষিকী। চলচ্চিত্রটি ঐ সময়ের ঘটনাকে পুনর্নির্মাণ করে দর্শকদের অতীতের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে।
সোমনাথ মন্দিরকে প্রায়ই ভারতের অটুট আত্মা ও সভ্যতার গৌরবের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। মন্দিরের ধ্বংস ও পুনর্নির্মাণের গল্পটি দেশের সাংস্কৃতিক গর্বকে জোরালোভাবে তুলে ধরবে। ছবিটি এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে পুনরায় জীবন্ত করে, দর্শকদের মধ্যে গর্ব ও সংবেদনশীলতা জাগাতে চায়।
প্রযোজনা কাজটি ভান্সালি প্রোডাকশনস এবং মায়া মুভিজের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে। কেতন মেহতা ছবির লেখক ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, আর ভান্সালি প্রোডাকশনস মূল তহবিল ও সৃজনশীল দিক থেকে সমর্থন দেবে। দুই প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা ছবির গুণমান ও বাজারযোগ্যতা বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুই পরিচালকই গুজরাটের বাসিন্দা, যা ছবির প্রামাণিকতা ও আবেগগত গভীরতায় অবদান রাখবে। গুজরাটের স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করার জন্য এই পটভূমি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দর্শকরা কেবল ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, সেই সময়ের সামাজিক পরিবেশও অনুভব করতে পারবেন।
ভান্সালি তার বিশাল ভিজ্যুয়াল স্টাইল এবং মেহতার বর্ণনামূলক শক্তিকে একত্রে মিশিয়ে ছবিটিকে বিশাল পরিসরের ঐতিহাসিক নাট্যরূপে গড়ে তুলতে চান। উভয়ের সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি একসাথে মিলে, ছবিটি ঐতিহাসিক গভীরতা এবং সিনেমাটিক মহিমা দুটোই প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘জয় সোমনাথ’ ২০২৭ সালের মধ্যে মুক্তি পাবে, তবে পোস্টার প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ইতিমধ্যে চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। উভয় পরিচালকই ছবির মাধ্যমে ভারতীয় সভ্যতার শক্তি ও স্থায়িত্বকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে চান। এই প্রকল্পটি দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা রাখে।
চিত্রশিল্পের উজ্জ্বল রঙ, ঐতিহাসিক পুনর্নির্মাণ এবং গুজরাটের স্থানীয় স্বাদ একত্রে ‘জয় সোমনাথ’কে বিনোদন জগতের একটি উল্লেখযোগ্য কাজ করে তুলবে। দর্শকরা যখন বড় পর্দায় এই গল্প দেখবেন, তখন অতীতের গৌরবময় মুহূর্তগুলোকে পুনরায় অনুভব করার সুযোগ পাবেন।



