ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামী) ১৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একাধিক স্ক্রিনশট শেয়ার করে জানান, তিনি বিভিন্ন অজানা মোবাইল নম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন। হুমকির কলগুলো ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। স্ক্রিনশটে দেখা যায়, অপরিচিত নম্বরগুলো থেকে একাধিকবার কল করা হয়েছে এবং প্রতিটি কলের সময়সীমা ও নম্বরের তথ্য স্পষ্টভাবে প্রদর্শিত হয়েছে।
প্রকাশিত স্ক্রিনশটে কলের সময়সূচি, কলার নম্বর এবং কলের স্বর স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে, যা হুমকির প্রকৃতি ও তীব্রতা নির্দেশ করে। শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামী) উল্লেখ করেন, এই হুমকি তার পূর্বে পাওয়া অসংখ্য মৃত্যুর হুমকির মধ্যে একটি মাত্র। তিনি বলেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে হুমকির মুখে আছেন এবং এই হুমকিগুলো তার নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে।
শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামী) পোস্টে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, “প্রিয় তারেক রহমান, এটা কি আপনারা যে ‘নারীবান্ধব এবং নিরাপদ’ বাংলাদেশ দাবি করেন, তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ?” তিনি এই প্রশ্নের মাধ্যমে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে নিরাপত্তা ও নারীর অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, “সব মুসলমানকে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত,” এবং নিজে ৩১ জুলাই ২০২৪ থেকে এই প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন বলে জানান।
শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামী) তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখিত এই মন্তব্যগুলো তার নিরাপত্তা উদ্বেগের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে। তিনি উল্লেখ করেন, হুমকিগুলো শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে নয়, শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে, যা শিক্ষাক্ষেত্রের স্বতন্ত্রতা ও স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
বাংলাদেশের দণ্ডবিধি অনুযায়ী, হুমকি প্রদান অপরাধ হিসেবে ধরা হয় এবং দণ্ডবিধির ধারা ৫০৬ অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারিত। হুমকি প্রদানকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে, যার মধ্যে ফৌজদারি রেজিস্ট্রেশন, তদন্ত ও আদালতে মামলা দায়ের করা অন্তর্ভুক্ত। শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামী) যে হুমকির মুখে আছেন, তা আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে যথাযথ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হুমকি ও সহিংসতার ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়ছে। পূর্বে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীকে হুমকি বা শারীরিক আক্রমণের মুখে দেখা গেছে, যা শিক্ষার পরিবেশকে অস্থির করে তুলেছে। শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামী) এর ক্ষেত্রে হুমকির পদ্ধতি ফোন কলের মাধ্যমে হওয়ায়, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষার গুরুত্বও পুনরায় উন্মোচিত হয়েছে।
হুমকি পাওয়ার পর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামী) তার ফেসবুক পেজে স্ক্রিনশট প্রকাশের মাধ্যমে জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এই ধরনের প্রকাশনা হুমকি প্রদানকারীর পরিচয় প্রকাশে সহায়তা করতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ করে। তবে, হুমকির প্রকৃত উৎস ও উদ্দেশ্য নির্ধারণের জন্য ফৌজদারি তদন্ত প্রয়োজন, যা সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব।
শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামী) এর পোস্টে উল্লেখিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম উল্লেখ করা সত্ত্বেও, তিনি সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি। তার মন্তব্য মূলত নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিস্তৃত উদ্বেগের প্রতিফলন। এই ধরনের প্রকাশনা সমাজে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়াতে পারে এবং হুমকি প্রদানকারী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে পারে।
শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামী) যে হুমকির মুখে আছেন, তা শিক্ষাবিদদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বকে পুনর্ব্যক্ত করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে হুমকি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং প্রয়োজনে আইনগত সহায়তা প্রদান করতে হবে।
এই ঘটনার পর, শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামী) তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে এমন হুমকি থেকে রক্ষা পেতে যথাযথ আইনি সহায়তা চান। তার পোস্টে উল্লেখিত ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিকোণও দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও সহনশীলতা নিয়ে আলোচনার সূচনা করেছে।
সারসংক্ষেপে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামী) ১৫ ফেব্রুয়ারি তার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত স্ক্রিনশটের মাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভিন্ন অজানা নম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে মৃত্যুর হুমকি পাচ্ছেন। তিনি এই হুমকিগুলোকে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করে প্রশ্ন তুলেছেন এবং আইনি দিক থেকে যথাযথ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে হুমকি মোকাবিলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি অপরিহার্য।



