পরিবেশ আইনজীবী সায়েদা রিজওয়ানা হাসান আজ জানিয়েছেন যে আইসিটি ও টেলিকমিউনিকেশন বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তায়েব, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব সম্পন্ন করার পর নেদারল্যান্ডসে তার পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলিত হয়েছেন। তায়েবের দেশে ফিরে আসা এবং তার কাজের সময়কাল নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর তিনি দিলেন। তিনি জোর দিয়ে বললেন, তায়েবের কাজের সময় তিনি বাংলাদেশে ছিলেন, তবে তার বসবাস ও পরিবার নেদারল্যান্ডসে অবস্থিত।
ফয়েজ আহমদ তায়েবকে ৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে রাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। এই পদে তিনি আইসিটি ও টেলিকমিউনিকেশন খাতের সংস্কারমূলক কাজের দায়িত্বে ছিলেন এবং দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার দায়িত্বকালে তিনি বহু নীতি পরিবর্তন ও প্রকল্প চালু করেন, যা কিছু গোষ্ঠীর সঙ্গে মতবিরোধের সৃষ্টি করে।
রিজওয়ানা হাসান উল্লেখ করেন, তায়েবের পরিবার ও গৃহস্থালি নেদারল্যান্ডসে, তাই তিনি সেখানে ফিরে গেছেন। তিনি বলেন, তায়েব এক বছর অর্ধেক সময় তার পরিবার থেকে দূরে থেকে দেশের সেবা করেছেন। এই সময়ে তিনি দেশের আইসিটি নীতি ও টেলিকম সেক্টরের সংস্কার কাজ চালিয়ে গেছেন, যা দেশের ডিজিটাল রূপান্তরে সহায়ক হয়েছে।
রিজওয়ানা তায়েবের দীর্ঘ সময়ের ত্যাগকে প্রশংসা করে বলেন, “এক বছর অর্ধেক সময় পরিবার ত্যাগ করে দেশের কাজ করা উচিতই প্রশংসনীয়”। তিনি যোগ করেন, তায়েবের দায়িত্ব শেষ হয়ে এখন তিনি তার পরিবারে ফিরে গেছেন এবং ভবিষ্যতে আবার দেশের সেবা করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
তায়েবের কাজের ফলে কিছু গোষ্ঠী অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং তাকে গোপনে দেশ ত্যাগের অভিযোগ তুলেছে। রিজওয়ানা এই অভিযোগকে অস্বীকার করে বলেন, তায়েবের সংস্কারমূলক পদক্ষেপ কিছু মানুষের বিরোধিতা সৃষ্টি করেছে, তবে তার প্রস্থ গোপন নয়, বরং স্বাভাবিক কর্মপরিবর্তন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের গুজব দেশের বাস্তব পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন এবং কোনো ভিত্তি নেই।
রিজওয়ানা নিজেও ভবিষ্যতে বিদেশে কাজের জন্য যাত্রা করলে তা জনসমক্ষে ঘোষণা না করার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমি যখন আমার পরামর্শমূলক দায়িত্ব শেষ করে বিদেশে যাই, তখন আমি তা প্রকাশ্যে জানাই না”। এ ধরনের ব্যক্তিগত পরিকল্পনা প্রকাশ না করার পদ্ধতি তিনি স্বাভাবিক বলে বিবেচনা করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের কিছু গোষ্ঠী সবকিছুতে নাটকীয়তা তৈরি করতে চায় এবং এ ধরনের গুজবের পেছনে এমনই কোনো গোষ্ঠী রয়েছে। রিজওয়ানা উল্লেখ করেন, এই প্রচেষ্টা বাস্তবতার সঙ্গে কোনো সংযোগ রাখে না এবং শুধুই উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য।
ফয়েজ আহমদ তায়েবের প্রস্থের দিন তিনি এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। তার প্রস্থের সময় তিনি দেশের বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে দায়িত্ব পালন করে দেশের সেবা করেছেন। তায়েবের প্রস্থের পরও তিনি ভবিষ্যতে দেশের সেবা পুনরায় শুরু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
রিজওয়ানা উল্লেখ করেন, তায়েব এবং তার দল দেশের সংকটের সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করে কাজ করেছেন এবং তা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি বলেন, “আমরা একটি অস্থির সময়ে দেশের সেবা করার জন্য এখানে এসেছি” এবং তায়েবের কাজের মূল্যায়ন করে দেশের উন্নয়নে তার অবদানকে স্বীকৃতি দেন।
শেষে রিজওয়ানা জোর দিয়ে বলেন, তায়েবের প্রত্যাবর্তন এবং তার কাজের মূল্যায়নকে রাজনৈতিক নাটকের মাধ্যমে বিকৃত করা উচিত নয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এমন গুজবের পরিবর্তে বাস্তবিক তথ্যের ভিত্তিতে আলোচনা হবে এবং দেশের উন্নয়নের জন্য সকলের সহযোগিতা বজায় থাকবে।



