নাটোর জেলায় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক বিরোধের ফলে শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একাধিক সহিংস ঘটনার ধারাবাহিকতা দেখা যায়। মোট ৩৭ জন আহত হয়েছেন এবং পুলিশ জানায় সাতজনকে আটক করা হয়েছে।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম শনিবারের ঘটনাগুলোর সময়সূচি ও পরিসর সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, সকাল সাড়ে দশটায় শুরু হয়ে পুরো দিন জুড়ে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণ হয়েছে।
পুলিশ, উভয় দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের পাশাপাশি বিজয়ী প্রার্থীরাও শান্তি বজায় রাখতে এবং সহনশীলতা প্রদর্শন করতে আহ্বান জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জোর দেওয়া হয়েছে।
সকাল সাড়ে দশটায় নাটোরের বড়াইগ্রাম ধানাইদহ এলাকায় বিএনপি ও জামাত সমর্থকদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে গুলির শট শোনা যায়। গুলির আঘাতে জামাতের আমির হাসিনুর রহমানসহ উভয় পক্ষের অন্তত দশজন আহত হন। এছাড়া আটটি বাড়িঘর ভাঙচুরের শিকার হয়।
আহতদের মধ্যে হাসিনুর রহমানসহ দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং বাকি রোগীদেরকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল, তবে চিকিৎসা চলমান।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাব জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
একই সময়ে নাটোরের সিংড়া পৌরসদরের পারসিংড়া এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে একটি নারীকর্মী, এছাতন, ভোটের সময় তার হাতের আঙ্গুল ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিএনপি সমর্থকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আটজনের ওপর হামলা চালায়।
সিংড়া থানার ওসি আসম আব্দুন নূর জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়ামুল ইসলাম নেহালকে আটক করা হয়েছে এবং বাকি সন্দেহভাজনদেরও গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে।
সিংড়ার কালিগঞ্জ বাজারে চা দোকানে চা পান করার সময় ছাতারদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান আলতাব হোসেনকে একই ইউপির যুবদল নেতা শামিম হোসেন মারধর করেন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত হোসেনকে উদ্ধার করে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
পুলিশের মতে, আজ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে; প্রথম চারজনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয়েছে, নিয়ামুল ইসলাম নেহাল এবং শামিম হোসেনের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



