রবিবার সকাল প্রায় ৯:৩০ টায় নওগাঁ জেলার ধামইরহাটের জাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের নেংড়াপীর-ইসবপুর সড়কের তেতুলতলী মোড়ে মঙ্গলবাড়ি বাজারে কুকুরের মাংস জবাইয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৫ কেজি কুকুরের মাংস উদ্ধার হওয়ার তথ্য জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। এরপর দুইজন কসাই তোপের মুখে দ্রুত পিছু হটিয়ে পালিয়ে যায়।
মঙ্গলবাড়ি বাজারে দীর্ঘদিন ধরে খাসির মাংস বিক্রি করে আসা কসাই এনতাজুল ইসলাম ও তার সহকারী দুলু মৌলভীকে স্থানীয়রা জানায়, তারা বাড়িতে পশু জবাই করে মাংস সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করতেন। রবিবার সকালে এনতাজুলের বাড়িতে কুকুর জবাই করার বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে এবং দ্রুতই খবর ছড়িয়ে পড়ে। এই তথ্যের বিস্তারেই দুজন কসাই তৎক্ষণাৎ তোপের মুখে গিয়ে পালিয়ে যায়।
উপজেলা জাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়ার মতে, ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৫ কেজি কুকুরের মাংস উদ্ধার করা হয়েছে এবং তা অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এনতাজুল ইসলাম ও দুলু মৌলভী উভয়েই তৎক্ষণাৎ তোপের মুখে গিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেছেন।
নওগাঁ পুলিশ সুপারইন্টেনডেন্ট তারিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে একটি টিম পাঠানো হয়। টিমের মাধ্যমে জবাই করা কুকুরের মাথা ও মাংস জব্দ করা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, জব্দকৃত মাংস ও প্রাণীর অংশগুলোকে পরে সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের জেলা কর্মকর্তা ডা. মাহফুজার রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সংগ্রহ করা মাংসের নমুনা ঢাকা ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়ে বিশ্লেষণ করা হবে এবং পরীক্ষার ফলাফলের মাধ্যমে মাংসটি কুকুরের কিনা তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
প্রতিবেদন অনুসারে, ঘটনাটি জেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে এবং আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ শেষে অপরাধী কসাইদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি আরোপের জন্য আদালতে মামলা দায়ের করা হবে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ কসাইদের কার্যক্রমের ওপর তীব্র নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধ রোধে বাজারে মাংস বিক্রির অনুমোদন প্রক্রিয়া কঠোর করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এছাড়া, প্রাণি কল্যাণ সংক্রান্ত আইন প্রয়োগে জোর বাড়িয়ে, অবৈধ জবাই কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
অবিলম্বে তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে যথাযথ তথ্য জানানো হবে এবং কসাইদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করা হবে।



