গৃহীত শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলাকালে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল রবিবার দুপুরে সচিবালয়ের প্রেস রুমে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পষ্ট বক্তব্য রাখেন। তিনি জানিয়ে দেন, ‘পরবর্তী মন্ত্রিসভায় আমার থাকার প্রশ্নই ওঠে না।’ এ মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি নিজের শপথে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বাদ দেওয়ার ইঙ্গিত দেন।
আসিফ নজরুল শপথের সময়সূচি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিশদ ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সংসদের শপথকক্ষে সংসদ সদস্যদের শপথ। আর বিকাল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার শপথ। সিইসি সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন বলে ধারণা করছি, তবে মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি। বিএনপির অভিপ্রায় অনুযায়ী জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ আয়োজন করা হয়েছে।’
শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ও আমন্ত্রণের তালিকা সম্পর্কে তিনি ক্যাবিনেট ডিভিশনের কাজের উল্লেখ করেন। ‘কারা কারা আমন্ত্রিত হবেন সেটি কনভেনশন অনুযায়ী করা হবে, সেটি ক্যাবিনেট ডিভিশন দেখছে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কোনো প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’ বলে তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়ে তার সরাসরি জ্ঞান নেই।
শপথের প্রধান অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতি উপস্থিত থাকবেন, যা সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী মন্ত্রিসভার শপথের জন্য নির্ধারিত। আসিফ নজরুলের মতে, শপথের সময়সূচি ও প্রোটোকল সংবিধানিক ও পার্লামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, শপথের সময়ে সংসদ সদস্যদের শপথ সিইসি দ্বারা পরিচালিত হবে, যা পূর্বের শপথের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
বিএনপি নেতৃত্বের শপথের স্থান নির্বাচন সম্পর্কে তিনি জানান, এটি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নির্ধারিত হয়েছে। এই স্থান নির্বাচন পার্টির অভিপ্রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং পার্লামেন্টের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ।
আসিফ নজরুলের মন্তব্যের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা শপথের সময়সূচি ও অংশগ্রহণকারীদের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। যদিও তিনি নিজের অংশগ্রহণের কথা না বললেও, তার অবস্থান সরকারী শপথের প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিকোণ প্রদান করে।
শপথের প্রস্তুতি চলাকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে শপথকে একটি বৈশ্বিক মঞ্চে উপস্থাপন করে। আসিফ নজরুলের মতে, এই আমন্ত্রণগুলি কনভেনশন অনুযায়ী পরিচালিত হবে এবং ক্যাবিনেট ডিভিশন এর তদারকি করবে।
শপথের দিন নির্ধারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি বাড়ানো হয়েছে। সরকারী নিরাপত্তা দপ্তর এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সমন্বয় করে শপথের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
শপথের সময়সূচি ও প্রোটোকল সম্পর্কে স্পষ্টতা প্রদান করার পাশাপাশি, আসিফ নজরুল শপথের পরবর্তী ধাপের দিকে ইঙ্গিত দেন। তিনি উল্লেখ করেন, শপথের পর মন্ত্রিসভার গঠন ও নীতি নির্ধারণের কাজ দ্রুততর হবে, যা দেশের শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বাড়াবে।
শপথের প্রস্তুতি চলাকালে সরকারী দফতরগুলোতে বিভিন্ন বিভাগীয় সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ক্যাবিনেট ডিভিশন শপথের কনভেনশন অনুযায়ী আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের তালিকা চূড়ান্ত করার দায়িত্বে রয়েছে।
আসিফ নজরুলের মন্তব্যের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলো শপথের সময়সূচি ও অংশগ্রহণের ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। বিএনপি শপথের স্থান ও সময়ের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছে, আর অন্যান্য দলগুলোও শপথের প্রোটোকল মেনে চলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
শপথের দিন নাগাদ দেশের বিভিন্ন অংশে নাগরিকদের মধ্যে প্রত্যাশা বাড়ছে। শপথের মাধ্যমে নতুন মন্ত্রিসভার গঠন এবং নীতি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিককে প্রভাবিত করবে। আসিফ নজরুলের স্পষ্ট বক্তব্য শপথের প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।



