মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণের জন্য প্রদত্ত দর্শনার্থী ভিসা (B-2) ব্যবহার করে শিক্ষাক্রমে ভর্তি হওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এ বিষয়ে মার্কিন দূতাবাস ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে জানিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হল ভিসা ব্যবহারের সীমা রক্ষা করা এবং শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে ভিসা দাতব্যতার অপব্যবহার রোধ করা। ঘোষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের কনসুলার নীতি পরিবর্তনের অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
দর্শনার্থী ভিসা মূলত স্বল্পমেয়াদী পর্যটন, পারিবারিক ভ্রমণ বা চিকিৎসা সেবা গ্রহণের জন্য প্রদান করা হয়। এখন থেকে এই ভিসা ধারকরা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ বা ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পূর্ণকালীন বা অর্ধকালীন কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন না। তবে পূর্বে নিবন্ধিত শিক্ষার্থী যারা ভিসা পরিবর্তন না করে কোর্স চালিয়ে যাচ্ছেন, তাদের বর্তমান স্ট্যাটাস বজায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
শিক্ষা উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য আলাদা F-1 ছাত্র ভিসা বা J-1 এক্সচেঞ্জ ভিসা প্রযোজ্য। এই ভিসা গুলোতে শিক্ষার সময়কাল, আর্থিক সমর্থন এবং কাজের অনুমতি স্পষ্টভাবে নির্ধারিত থাকে। মার্কিন দূতাবাসের নতুন নির্দেশনা স্পষ্টভাবে এই দুই ভিসা প্রকারের সঙ্গে দর্শনার্থী ভিসার পার্থক্য তুলে ধরেছে এবং ভিসা প্রয়োগে সঠিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
মার্কিন সরকার পূর্বে একই ধরনের নীতি প্রয়োগ করে থাকে, বিশেষ করে যখন ভিসা ব্যবহারে শিক্ষামূলক উদ্দেশ্য দেখা যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার কনসুলেটগুলোও অনুরূপ সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে, যাতে পর্যটক ভিসা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষার সুযোগ না নেওয়া যায়। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন দূতাবাসের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ভিসা নীতির সামঞ্জস্য বজায় রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
মার্কিন দূতাবাসের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “দর্শনার্থী ভিসা শুধুমাত্র অস্থায়ী ভ্রমণ উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয় এবং শিক্ষাক্রমে ভর্তি হওয়া এই ভিসার শর্তের বিরোধী।” এছাড়া, ভিসা আবেদনকারীদেরকে সঠিক ভিসা ক্যাটেগরি নির্বাচন করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের কনসুলেটগুলো এই পরিবর্তন সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেছে এবং আগ্রহী শিক্ষার্থীদেরকে F-1 বা J-1 ভিসার জন্য আবেদন করার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া, ভিসা অফিসগুলো নতুন নীতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ওয়েবসাইট ও সামাজিক মাধ্যমে আপডেট শেয়ার করেছে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো অতিরিক্ত ফি বা দেরি না হওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপটি ভিসা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং ভিসা দাতব্যতার অপব্যবহার কমাবে। একই সঙ্গে, এটি শিক্ষার্থীদেরকে সঠিক ভিসা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করার সুযোগ নিশ্চিত করবে। তবে, কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, স্বল্পমেয়াদী কোর্সে অংশগ্রহণের জন্য ভিসা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে এবং আবেদনকারীর প্রস্তুতি প্রয়োজন।
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছা থাকা প্রার্থীদের জন্য এই নীতি পরিবর্তন কিছুটা অতিরিক্ত প্রস্তুতি দাবি করবে। আবেদনকারীদেরকে কোর্সের সময়কাল, আর্থিক সমর্থন এবং ইমিগ্রেশন নিয়মাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। এছাড়া, ভিসা সাক্ষাৎকারে শিক্ষার উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টেশন জমা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কিন দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী, ইতিমধ্যে দর্শনার্থী ভিসা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এবং শিক্ষাক্রমে ভর্তি হওয়া ব্যক্তিরা তাদের স্ট্যাটাস পরিবর্তন না করলে বর্তমান কোর্স চালিয়ে যেতে পারবেন। তবে, নতুন ভর্তি বা কোর্স পরিবর্তন চাইলে সংশ্লিষ্ট ভিসা ক্যাটেগরিতে রূপান্তর করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ফি ও নথিপত্র সম্পন্ন করতে হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নীতি ১ মার্চ, ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে এবং সকল কনসুলেট ও ভিসা সেন্টার এই তারিখের পূর্বে আবেদনকারীদেরকে জানাবে। ভবিষ্যতে ভিসা নীতিতে অতিরিক্ত পরিবর্তন হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা তাৎক্ষণিকভাবে আপডেট প্রদান করবে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও শিক্ষার ক্ষেত্রে সঠিক ভিসা নির্বাচন এখনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।



