22 C
Dhaka
Sunday, February 15, 2026
Google search engine
Homeব্যবসানতুন সরকারকে দামের উত্থান থামানো ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নতিতে ত্বরান্বিত পদক্ষেপের আহ্বান

নতুন সরকারকে দামের উত্থান থামানো ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নতিতে ত্বরান্বিত পদক্ষেপের আহ্বান

বিএনপি দল ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখের জাতীয় নির্বাচনে বিশাল জয়লাভের পর এই সপ্তাহে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন প্রশাসনকে তাত্ক্ষণিকভাবে উচ্চমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে হবে, যাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব হয়।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, নতুন সরকার একটি এমন অর্থনীতির উত্তরাধিকারী হবে যেখানে পুনরুদ্ধারের সূচক দেখা গেলেও মুদ্রাস্ফীতি উচ্চ, বেসরকারি বিনিয়োগ ধীরগতি, আর্থিক খাত দুর্বল এবং রপ্তানি হ্রাসের প্রবণতা রয়েছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় নীতিগত পদক্ষেপের জরুরি প্রয়োজন।

২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে মোট দেশীয় উৎপাদন মাত্র ৩.৯৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে ২০২৬ সালে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার একই রকম ধীরগতিতে থাকবে।

বাজারে পণ্যের দামের দ্রুত বৃদ্ধি মূলত সরবরাহ দিকের সীমাবদ্ধতা থেকে উদ্ভূত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক বজায় রাখা কঠোর মুদ্রানীতি এখনো মুদ্রাস্ফীতি কমাতে সক্ষম হয়নি।

অর্থনীতিবিদরা সুপারিশ করছেন, প্রয়োজনীয় পণ্যের উপর আমদানি শুল্ক কম রাখা, সরবরাহ শৃঙ্খল নিশ্চিত করা এবং বাজার তদারকি শক্তিশালী করা উচিত। শুধুমাত্র উচ্চ সুদের হার বজায় রেখে মুদ্রানীতির ওপর নির্ভর করা দামের উত্থান থামাতে যথেষ্ট হবে না।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ফাহমিদা খাতুন উল্লেখ করেছেন, মুদ্রাস্ফীতি বাস্তব মজুরিকে ক্ষয় করছে এবং এই সমস্যার সমাধানে নতুন সরকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিক্সের তথ্য অনুযায়ী জানুয়ারি মাসে মুদ্রাস্ফীতি ৮.৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে, ১২ মাসের গড় ৮.৬৬ শতাংশ, যা তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে উচ্চ স্তরে রয়েছে।

বেসরকারি খাতেও ব্যয়বৃদ্ধি লাভের মার্জিনকে সংকুচিত করছে, ফলে ব্যবসায়িক পরিবেশ কঠিন হয়ে উঠেছে। ফাহমিদা খাতুনের মতে, মুদ্রানীতি ও আর্থিক নীতির সমন্বয়, পাশাপাশি সরবরাহ দিকের সমস্যার সমাধানই মূল চাবিকাঠি।

পরবর্তী সরকারের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা। যদিও ব্যবসায়িক পরিবেশের সংস্কার দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, তবুও উদ্যোক্তাদের জন্য একক সেবা কেন্দ্র স্থাপন এবং প্রশাসনিক বাধা কমানোর মতো পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

এই নীতিগত পরিবর্তনগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে, দামের স্থিতিশীলতা, বেসরকারি খাতের উন্নতি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনীতির সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি সম্ভব হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments