ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা, ১১ দলীয় জোটের ওপর বিএনপি বিশাল জয় অর্জনের পর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। শপথ অনুষ্ঠানটি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে এবং বিজয়ী দলটি জামাতের নেতৃত্বে থাকা জোটকে পরাজিত করেছে। এই আমন্ত্রণের মাধ্যমে দু’দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে পুনরায় জোরদার করার ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে।
নতুন দিল্লি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নরেন্দ্র মোদি এবং তার সরকার আমন্ত্রণটি গ্রহণের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং ভারতের প্রতিনিধিত্বের বিস্তারিত বিষয়গুলো এখনও চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সরকারী দিক থেকে যথাযথ প্রোটোকল অনুসরণ করে এই শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি।
একই সময়ে, ১৬ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দিল্লিতে “India AI Impact Summit” অনুষ্ঠিত হবে। এই শীর্ষ সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারক অংশ নেবে। সমাবেশের সময়সূচি ও অংশগ্রহণকারীদের তালিকা সরকারী সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে।
সাময়িকভাবে, প্রায় বিশটি রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ নেতাকে এই সময়ে দিল্লিতে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনও অন্তর্ভুক্ত। এই বৃহৎ আন্তর্জাতিক সমাবেশের কারণে নরেন্দ্র মোদি নিজে শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে না পারলেও, তার পক্ষ থেকে কোনো উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি পাঠানোর সম্ভাবনা বেশি।
ভারতীয় পার্লামেন্টের স্পিকার ওম বিরলা এবং ভারতীয় গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান বিক্রম মিস্রি দুজনই শীঘ্রই ঢাকায় সফর করবেন বলে জানা গেছে। তাদের সফরের উদ্দেশ্য এবং সময়সূচি এখনও সরকারী ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে। এই সফরটি দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত।
নরেন্দ্র মোদি বিএনপি-কে প্রথমে অভিনন্দন জানিয়ে, তারেক রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। কথোপকথনে তিনি বাংলাদেশের জনগণের এই নির্বাচনী জয়ে যে আস্থা প্রকাশ পেয়েছে তা উল্লেখ করে, দুই দেশের পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি আরও বলেছিলেন, “আপনার নেতৃত্বে জনগণের আস্থা স্পষ্ট হয়েছে” এবং “বাংলাদেশের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধিতে ভারত অবিচল সমর্থন দেবে”।
মোদি তার এক্স (X) হ্যান্ডেলে একই বার্তা পুনরায় প্রকাশ করে, বিএনপির পার্লামেন্টীয় জয়কে বাংলাদেশের জনগণের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, “এই জয় আপনার নেতৃত্বে জনগণের আস্থা প্রকাশ করে” এবং “দুই প্রতিবেশী দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য ভারত অব্যাহতভাবে সহায়তা করবে”। এই প্রকাশনা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ভারত সরকারও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। নরেন্দ্র মোদির মন্তব্যে দেখা যায়, দু’দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে ভিত্তি করে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ইচ্ছা স্পষ্ট। এই অবস্থানটি দু’দেশের কূটনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
বিএনপি শপথ গ্রহণের পর দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক দৃশ্যপট উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। নতুন সরকারকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সমর্থন পাওয়া দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই শপথ অনুষ্ঠান একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আসন্ন দিনগুলোতে নরেন্দ্র মোদি ও ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের মধ্যে আরও উচ্চস্তরের আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। দু’দেশের নেতাদের পারস্পরিক সমঝোতা ও সহযোগিতা কীভাবে গড়ে উঠবে, তা ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শপথ অনুষ্ঠানের পরবর্তী ধাপগুলোতে সরকারী ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্টতা আসবে।
সারসংক্ষেপে, ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের আমন্ত্রণে নরেন্দ্র মোদি শপথ অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত না হলেও, তার প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে দু’দেশের বন্ধনকে শক্তিশালী করার ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে। এই রাজনৈতিক পদক্ষেপটি বাংলাদেশের নতুন সরকারের বৈধতা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাড়াবে এবং ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে।



