বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান ও হেলিকপ্টার সেবা বর্তমানে গভীর সংকটে। তিন দশকেরও বেশি সময়ে বহু স্বতন্ত্র এয়ারলাইন ও হেলিকপ্টার কোম্পানি বাজারে প্রবেশ করলেও, নীতি ও আর্থিক সমস্যার কারণে তাদের কার্যক্রমে বড় ধাক্কা লেগেছে।
১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে বেসরকারি এয়ারলাইন ও হেলিকপ্টার অপারেটরের সংখ্যা কয়েক ডজনের কাছাকাছি ছিল। দেশীয় ও বিদেশি উদ্যোক্তারা দ্রুত বাড়তে থাকা যাত্রী ও কার্গো চাহিদা কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন।
এই সময়ে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ কোটি টাকা অনুমান করা হয়, যার মধ্যে এয়ারলাইন সেক্টর একা দশ হাজার কোটি টাকার বেশি মূলধন আকৃষ্ট করেছে। তবে এই বিশাল মূলধন শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত রিটার্ন দিতে পারেনি।
প্রায় দশটি যাত্রী এয়ারলাইন বাধ্যতামূলকভাবে সেবা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে, আর কার্গো ক্যারিয়ার ও প্রায় দুই তৃতীয়াংশ হেলিকপ্টার অপারেটর ধারাবাহিক ক্ষতির ফলে বাজার থেকে সরে গেছে। ফলে শিল্পের মোট বিনিয়োগের বেশিরভাগই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আজকের অবস্থায় মাত্র তিনটি বেসরকারি যাত্রী এয়ারলাইন এবং সাত থেকে আটটি হেলিকপ্টার অপারেটরই সক্রিয়ভাবে সেবা প্রদান করছে। বাকি সব প্রতিষ্ঠান আর কার্যকর নয়।
শিল্পের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো সতর্ক করে যে, নীতিগত সহায়তা না পেলে বেসরকারি সেক্টর আরও সংকুচিত হতে পারে এবং দেশের বিশাল ডায়াস্পোরা-চালিত বিমান চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হতে পারে। বিশেষ করে কর নীতি ও সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলা হয়েছে।
এviation Operators Association of Bangladesh (AOAB)-এর সচিব সাধারণ মোফিজুর রহমান, যিনি ১৭টি স্থানীয় অপারেটরের প্রতিনিধিত্ব করেন, শিল্পকে “একটি মোড়ে এবং এক প্রান্তে” অবস্থান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সঠিক নীতি ও কৌশল না থাকলে শিল্পের পতন অবশ্যম্ভাবী।
রহমানের মতে, যদি সরকার ও শিল্পের অংশীদাররা সমন্বিতভাবে সঠিক পদক্ষেপ নেয়, তবে বর্তমান সংকট থেকে বেরিয়ে এসে একটি টেকসই বিমান শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব। অন্যথায়, অব্যাহত অগ্রাহ্যতা শিল্পকে সম্পূর্ণভাবে অচল অবস্থায় নিয়ে যাবে।
প্রারম্ভিক ১৯৯০-এর দশক থেকে বেসরকারি সেক্টর ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি, যদিও বিনিয়োগের পরিমাণ বিশাল ছিল। যাত্রী এয়ারলাইনগুলো কিছুটা হলেও দেশের আকাশপথে উপস্থিতি বজায় রেখেছে, তবে কার্গো সেবা প্রায় অদৃশ্য হয়ে গেছে।
মোফিজুরের মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, যাত্রী এয়ারলাইনগুলো কিছু প্রভাব ফেললেও, প্রায় এক ডজনের কাছাকাছি কার্গো এয়ারলাইন একের পর এক বাজার থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছে, যার নামও সাধারণ মানুষ জানে না। এই অদৃশ্যতা শিল্পের কাঠামোগত দুর্বলতা নির্দেশ করে।
হেলিকপ্টার সেক্টরও এক সময় উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখিয়েছিল; শীর্ষে প্রায় বারোটি কোম্পানি সক্রিয়ভাবে সেবা দিচ্ছিল। তবে একই ধরনের আর্থিক চাপ ও নীতিগত অনিশ্চয়তা এই সেক্টরকে বড় ক্ষতির মুখে ফেলেছে, ফলে আজ মাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠানই বেঁচে আছে।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিতে, বেসরকারি বিমান শিল্পের টিকে থাকার জন্য করের হ্রাস, ন্যায্য ট্যাক্স রেজিম এবং সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। এসব নীতি বাস্তবায়ন হলে শিল্প পুনরায় বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারবে এবং দেশের ডায়াস্পোরা ও অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে। বর্তমান সংকটকে সুযোগে রূপান্তরিত করা সম্ভব, তবে তা নির্ভর করবে নীতি নির্ধারকদের দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপের ওপর।



