শনিবার রাতের অন্ধকারে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার রামেশ্বরপুর এলাকায় একটি অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছিল। তিনজন সন্দেহভাজন রিকশা থেকে যাত্রী সেজে উঠার পর চালককে দূরবর্তী ধানক্ষেতে নিয়ে গিয়ে গলা ও পেটে ছুরি ঢুকিয়ে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিল। তবে কাছের জমিতে সেচ কাজ করছিলেন এক স্থানীয়ের টর্চলাইটের ঝলক দেখেই ছিনতাইকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যায়।
অভিযুক্তদের মধ্যে একজন দ্রুত দৌড়ে গিয়ে রিকশা ছেড়ে দিল, আর অন্যজনকে চালক দৃঢ়ভাবে ধরতে সক্ষম হয়। চালকের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন তৎক্ষণাৎ উপস্থিত হয়ে ধরা পড়া ছিনতাইকারীকে আটক করে। এ সময়ে রিকশা এখনও সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল, ফলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎপরতা দেখায়।
ঘোড়াঘাট থানার ওয়ান-সিনিয়র অফিসার শহিদুল ইসলাম জানান, ছিনতাই হওয়া রিকশা উদ্ধার করতে সঙ্গে সঙ্গে অনুসন্ধান অভিযান চালু করা হয়। পুলিশের ত্বরিত পদক্ষেপে ছিনতাইকারীরা রিকশা ছেড়ে দিয়ে পিছু হটে, পরে রিকশাটি উদ্ধার করে থানায় হস্তান্তর করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন মোস্তফা মিয়া, ওরফে মোস্তা, বয়স পঞ্চান্ন বছর, যিনি ঘোড়াঘাট উপজেলার কুন্দারামপুর গ্রাম থেকে। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অপরাধের মামলা দায়ের রয়েছে, যা পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
অভিযুক্তের গ্রেফতার হওয়ার পর চালক রিকশা চালিয়ে তিনজন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেন। তিনি সংশ্লিষ্ট তিনজনকে অপরাধী হিসেবে দায়ের করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে দুইজন সন্দেহভাজন পলাতক, তাদের গ্রেফতার চালু রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত মোস্তা রোববার দিনাজপুরের সিভিল জুডিশিয়াল আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি অপরাধের অভিযোগে শোনাবেন। আদালতের রায়ের পর তাকে যথাযথ শাস্তি প্রদান করা হবে।
পুলিশের মতে, রিকশা ছিনতাইয়ের সময় চালকের সাহসিকতা এবং আশেপাশের মানুষের ত্বরিত সহায়তা ঘটনার মূল মোড় পরিবর্তন করেছে। টর্চলাইটের এক ঝলকই পুরো পরিকল্পনাকে ব্যাহত করে, ফলে সম্ভাব্য প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিকশা চালক ঘটনাস্থলে আহত হয়নি, তবে মানসিক আঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি এখনো রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
ঘোড়াঘাট থানার কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, রিকশা চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিকশা চালকদের জন্য অতিরিক্ত রোড সিকিউরিটি ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এছাড়া, স্থানীয় জনগণকে অন্ধকার সময়ে একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতা করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ যৌথভাবে এলাকায় নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পেট্রোল চালু করেছে। রিকশা চালকদের জন্য জরুরি যোগাযোগ নম্বর এবং সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে।
সামগ্রিকভাবে, টর্চলাইটের এক ঝলক এবং স্থানীয়দের ত্বরিত প্রতিক্রিয়া এই হত্যার পরিকল্পনাকে ব্যর্থ করে, চালককে বাঁচিয়ে রাখে এবং অপরাধীর গ্রেফতার নিশ্চিত করে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে নিরাপত্তা সচেতনতা এবং দ্রুত সহায়তার গুরুত্ব পুনরায় জোর দেওয়া হচ্ছে।



