বহু বছর ধরে ভারতীয় সিনেমার দু’জন বিশিষ্ট নির্মাতা, সঞ্জয় লীলা ভান্সালি এবং কেতন মেহতা, একত্রে ‘জয় সোমনাথ’ শিরোনামের নতুন চলচ্চিত্রের কাজ শুরু করেছেন। এই প্রকল্পটি প্রাচীন সোমনাথ মন্দিরের কিংবদন্তি ভিত্তিক এবং ২০২৭ সালে মুক্তি পাবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
‘জয় সোমনাথ’কে ভারতীয় সভ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ গল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হবে, যেখানে ঐতিহাসিক পটভূমি এবং ধর্মীয় গুরুত্বের মিশ্রণ থাকবে। চলচ্চিত্রটি সমৃদ্ধ ভিজ্যুয়াল ও সঙ্গীতের মাধ্যমে প্রাচীন যুগের পরিবেশকে পুনরায় জীবন্ত করে তুলবে।
প্রযোজনা দায়িত্ব ভান্সালি প্রোডাকশনস এবং কেতন মেহতার নিজস্ব মায়া মুভিজের যৌথ উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে। উভয় সংস্থার সমন্বিত সম্পদ ও অভিজ্ঞতা চলচ্চিত্রের গুণগত মানকে উচ্চ স্তরে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের লেখক ও পরিচালক হিসেবে কেতন মেহতা কাজ করবেন, যেখানে তিনি গল্পের মূল রূপরেখা গঠন এবং শুটিংয়ের দায়িত্বে থাকবেন। তার স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি এবং বর্ণনাশৈলী চলচ্চিত্রকে আলাদা স্বাদ দেবে।
সঞ্জয় লীলা ভান্সালি এই সহযোগিতার বিষয়ে প্রকাশ্যে তার গভীর সম্মান ও প্রশংসা জানিয়েছেন। তিনি মেহতার চলচ্চিত্র ‘মির্চ মাসালা’কে নিজের দশটি প্রিয় ভারতীয় ছবির মধ্যে একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তার কাজের প্রতি দীর্ঘদিনের অনুরাগ প্রকাশ করেছেন।
ভান্সালি ও মেহতা পূর্বে একসাথে কাজ করার সুযোগ পাননি, তবে দুজনেরই শিল্পের প্রতি সমান উত্সাহ রয়েছে। এই প্রকল্পটি তাদের প্রথম যৌথ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখযোগ্য। উভয়ই একে অপরের সৃজনশীল দিককে সম্মান করে এই কাজকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেছেন।
‘জয় সোমনাথ’ প্রকল্পটি মহা শিবরাত্রির দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়। শিবরাত্রি, যা শিবের প্রতি ভক্তির অন্যতম পবিত্র দিন, এই ঘোষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় চলচ্চিত্রের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব আরও বাড়ে।
সোমনাথ মন্দির, গুজরাটের একটি প্রধান তীর্থস্থান, শতাব্দীপ্রাচীন ইতিহাসের ধারক। এই মন্দিরের কিংবদন্তি ও ঐতিহাসিক ঘটনার উপর ভিত্তি করে চলচ্চিত্রটি নির্মিত হবে, যা দর্শকদের ধর্মীয় অনুভূতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে।
চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের জন্য বিশাল সেট ও প্রাচীন স্থাপত্যের পুনর্নির্মাণ পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভান্সালি প্রোডাকশনের পরিচিত ভিজ্যুয়াল শৈলী এবং মেহতার সূক্ষ্ম বর্ণনাশক্তি একত্রে সমন্বয় করে একটি সমৃদ্ধ সময়কালের চিত্রায়ণ তৈরি হবে।
প্রকল্পের স্ক্রিপ্টে ভারতীয় সভ্যতার উত্থান-পতনের গল্প, ধর্মীয় আস্থা এবং মানবিক সংগ্রামের উপাদানগুলো মিশ্রিত হবে। এই বিষয়গুলোকে আধুনিক দর্শকের কাছে সহজে পৌঁছানোর জন্য সমসাময়িক বর্ণনা কৌশল ব্যবহার করা হবে।
প্রযোজক ও পরিচালক উভয়ই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ভারতীয় সংস্কৃতির সমৃদ্ধি ও বৈচিত্র্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে চান। তাদের মতে, ‘জয় সোমনাথ’ শুধুমাত্র একটি ঐতিহাসিক নাটক নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক বার্তা বহন করবে।
শিল্পের বিশ্লেষকরা এই সহযোগিতাকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। দু’জনের স্বতন্ত্র শৈলী একত্রে মিশ্রিত হলে নতুন ধরণের বর্ণনা ও ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দর্শকরা ইতিমধ্যে এই প্রকল্পের জন্য উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে চলচ্চিত্রের টিজার ও পোস্টার প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাশা বাড়ছে, এবং ২০২৭ সালের মুক্তির দিকে নজর বাড়ছে।
সর্বশেষে, ‘জয় সোমনাথ’ ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী গল্পকে আধুনিক প্রযুক্তি ও সৃজনশীল দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা হবে। এই যৌথ উদ্যোগের ফলাফল কীভাবে দর্শকদের মুগ্ধ করবে, তা সময়ই বলবে।



