সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আলিমুল ইসলামের প্রশাসনিক অনিয়মের প্রতিবাদে রবিবার দুপুরে ভিসি (ভাইস-চ্যান্সেলর) দপ্তরে এক শিক্ষককে আক্রমণ করা হয়। ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি অধ্যাপক মোজাম্মেল হক জানান।
প্রতিবাদটি উপাচার্যের বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর প্রশ্ন তোলার পর শুরু হয়। হক উল্লেখ করেন, আলিমুল ইসলামের কিছু প্রশাসনিক কাজের ওপর প্রশ্ন ওঠার সঙ্গে সঙ্গে প্রফেসর মোহাম্মদ মাহবুব ইকবালকে লক্ষ্য করে দলগত আক্রমণ চালানো হয়।
আক্রমণের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর জসিম উদ্দিন আহমেদ ছিলেন, সঙ্গে প্রফেসর সামিউল আহসান তালুকদার, প্রফেসর মাসুদুর রহমান, প্রফেসর মুক্তার হোসেন, প্রফেসর রাশেদ আল মামুন এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন।
ভিকটিম প্রফেসর মাহবুব ইকবাল জানান, আক্রমণে তার ঠোঁট ফেটে গিয়ে রক্তপাত হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে বিশ্রাম নিচ্ছেন। তিনি এটিকে পরিকল্পিত হামলা হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইকবাল আরও বলেন, নির্বাচনের দুই দিন আগে উপাচার্য অস্থায়ী (অ্যাডহক) নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করেন। তিনি রাত্রিকালীন অন্ধকারে বহু অনিয়মের মাধ্যমে ১৫ থেকে ২০ জন কর্মচারীকে অস্থায়ী পদে নিয়োগ দিয়েছেন, যা নিয়ম অনুযায়ী নিষিদ্ধ। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিরোধে শিক্ষকরা প্রতিবাদে গিয়েছিলেন।
প্রতিবাদে উপস্থিত সাদা দলের শিক্ষকরা যখন উপাচার্যের অনিয়মের বিষয় তুলে ধরছিলেন, তখন ক্যাডার বাহিনীর সদস্যরা হঠাৎ আক্রমণ চালায়। আক্রমণের ফলে ইকবালের মুখের নরম টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনা ঘটার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। অনেক শিক্ষক এই আক্রমণকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচনা করে দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দাবি করছেন।
কিছু শিক্ষক জরুরি বৈঠকের আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোর স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তাবনা তুলে ধরতে চান।
উপাচার্য আলিমুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কলের উত্তর দেননি। একইভাবে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. আসাদ-উদ-দৌল্লার নম্বরে কল করা হলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। শিক্ষক ও কর্মচারীরা ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নিরাপত্তা প্রোটোকল শক্তিশালী করার দাবি জানাচ্ছেন।
শিক্ষক সমিতি উল্লেখ করেছে, যদি দ্রুত এবং ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপ না নেওয়া হয় তবে শিক্ষকমণ্ডলীর মধ্যে কর্মপরিবেশের অবনতি ঘটতে পারে, যা শিক্ষার গুণগত মানের ওপর প্রভাব ফেলবে।
এই ঘটনার পর শিক্ষার্থীদেরও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষার জন্য প্রশাসনকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে এই ধরনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি। শিক্ষকমণ্ডলীর নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা না হলে শিক্ষার মান ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
শিক্ষক ও কর্মচারীদের দাবি অনুযায়ী, তৎক্ষণাৎ একটি স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠন করে আক্রমণের কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা উচিত। এধরনের পদক্ষেপ শিক্ষার পরিবেশকে পুনরুদ্ধার করতে সহায়ক হবে।
অবশেষে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করে সমস্যার মূল কারণ নির্ণয় করে সমাধানমূলক নীতি গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধ করা যায়।



