আইন ও সলিশ কেন্দ্র (ASK) আজ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের পর ঘটমান সহিংসতা, প্রাণহানি এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর আক্রমণকে নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি রাজনৈতিক দলগুলোকে তৎক্ষণাৎ তাদের ভিত্তিক কর্মীদের হিংসা, হুমকি, জমি দখল এবং বিশেষ করে নারী, সংখ্যালঘু ও সামাজিকভাবে দুর্বল গোষ্ঠীর ওপর আক্রমণ বন্ধ করার নির্দেশ দিতে আহ্বান জানিয়েছে।
ASK উল্লেখ করেছে যে, মিডিয়া সূত্রে জানা যায় মুন্সিগঞ্জ ও বাগেরহাট জেলায় কমপক্ষে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনের পর বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত দাঙ্গা ও আক্রমণে দুইশতাধিক মানুষ আহত হয়েছে বলে রিপোর্ট করা হয়েছে।
সংগঠনটি একটি নারীকে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগের কথাও তুলে ধরেছে, যা কেবল অপরাধ নয়, মানব মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের দায়িত্ব হল প্রতিটি নাগরিকের জীবন, নিরাপত্তা ও গৌরব রক্ষা করা। বিশেষ করে এই অস্থির সময়ে দুর্বল গোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ASK জোর দিয়ে বলেছে, রাজনৈতিক মতবিরোধ কখনোই সহিংসতা বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণ হতে পারে না। কোনো ধরনের হিংসা স্বাভাবিকীকরণ বা উপেক্ষা করা উচিত নয়।
সংগঠনটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনকে প্রত্যাশা করেছে যে, প্রতিটি ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করা হবে এবং দায়ী ব্যক্তিদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায়বদ্ধ করা হবে।
ASK-এর এই আহ্বান দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ রাখতে এবং নির্বাচনের ফলাফলকে স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
প্রতিপক্ষ দলগুলোরও এই পরিস্থিতিতে কী পদক্ষেপ নেবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে সংগঠনটি সকল রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে এই সংকটময় মুহূর্তে সংযম বজায় রাখতে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একত্রে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছে।
ভবিষ্যতে যদি এই ধরনের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক চিত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
ASK-এর বিবৃতি অনুযায়ী, নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে ঘটমান হিংসা ও অপরাধের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারকে মানবাধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
সংগঠনটি শেষ করে উল্লেখ করেছে, দেশের সংবিধানিক নীতি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সকল নাগরিকের গৌরব রক্ষা করা সকলের দায়িত্ব।



