মাদারিপুর সদর উপজেলার নূতন মাদারিপুর গ্রামে শুক্রবার রাত ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র হিংসা দেখা দেয়। সংঘাতে একশের বেশি গৃহনির্মিত বোমা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং অন্তত এক ব্যক্তি আঘাত পায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (রাব) দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এই হিংসা দীর্ঘদিনের ক্ষমতা-দ্বন্দ্বের ফল, যেখানে একপাশে অক্তার হাওলাদার ও লাবলু হাওলাদার নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী, অন্যপাশে হাসান মুন্সি নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী রয়েছে। উভয় গোষ্ঠীর মধ্যে স্থানীয় আধিপত্যের জন্য বহু বছর ধরে বিরোধ চলেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে হাসান মুন্সি গোষ্ঠীর ১০ থেকে ১৫ জন কিশোর সদস্য রানা বেপারিকে আক্রমণ করে, যিনি অক্তার হাওলাদার গোষ্ঠীর সমর্থক।
আক্রমণের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে উভয় গোষ্ঠীর সদস্যরা হাতে তৈরি অস্ত্র ও গৃহনির্মিত বোমা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা লড়াইয়ে গুলিবিদ্ধের বদলে বোমা বিস্ফোরণ প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পুলিশ জানায়, এই সময়ে একশের বেশি বোমা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা এলাকায় বিশাল ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি করে।
মাদারিপুর অতিরিক্ত সুপারইন্টেনডেন্ট অফ পুলিশ মো. জাহাঙ্গীর আলমের মতে, গৃহনির্মিত বোমা ছাড়াও কিছু অংশগ্রহণকারী ঢাল, কুঠার ও বর্শা ব্যবহার করে শত্রুকে আক্রমণ করে। হিংসা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও রাবের যৌথ টাস্কফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে এবং গুলিবিদ্ধদের ওপর গুলিবিদ্ধের সংখ্যা কমিয়ে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তি সুমন নামে পরিচিত এবং তিনি মাদারিপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল, তবে গুরুতর আঘাতের কারণে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। অন্য কোনো প্রাণহানি রিপোর্ট করা হয়নি।
মাদারিপুর সদর পুলিশ স্টেশন জানায়, ঘটনাস্থল থেকে চারটি মোটরসাইকেল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যেগুলি হিংসায় ব্যবহৃত হওয়ার সন্দেহ রয়েছে। তবে এখনো কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা যায়নি, কারণ হিংসাকারীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে গিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনাটির এক মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে অন্ধকারে টর্চলাইট ব্যবহার করে একে অপরকে চিহ্নিত করার দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে কিছু ব্যক্তি ঢাল ও কুঠার হাতে, অন্যরা বোমা নিক্ষেপ করে। শুটিংয়ের সময় গর্জন ও উত্সাহজনক চিৎকার শোনা যায়, যা হিংসার তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়।
পুলিশের মতে, হিংসা থামানোর জন্য ব্যাপক তদন্ত চালু করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সদস্যদের ওপর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা একত্রে কাজ করে হিংসার মূল কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের সনাক্ত করার চেষ্টা করছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘাত রোধে নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ সমাধানের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।



