বগুড়া জেলার গাবতলী গ্রামার এক বাসার সামনে ট্রাক ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামকে ছুরি-ধারালো অস্ত্রের আক্রমণে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি রবিবার ভোরে স্থানীয় পুলিশকে জানানো হয় এবং পরবর্তীতে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহের ওপর প্রাথমিক তদন্তে ব্যবসায়িক বিরোধের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
গাবতলী মডেল থানা থেকে জানানো হয়েছে যে, সন্ধ্যা পর্যন্ত সাইফুলের কোনো যোগাযোগ পাওয়া যায়নি। রবিবার ভোরে তার পরিবার ঘরে ফিরে না পেয়ে ঘরের সামনে ঘাসের জমিতে রক্তাক্ত অবস্থায় দেহটি পাওয়া যায়। দেহটি তৎক্ষণাৎ থানা কর্তৃক উদ্ধার করে গুয়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মরগে পাঠানো হয় অটো-সিকোয়েন্সের জন্য।
সাইফুল ইসলাম, ৪০ বছর বয়সী, জামাল উদ্দিন (যা জামুর নামেও পরিচিত) নামে স্থানীয় ব্যবসায়ীর পুত্র। তিনি গাবতলীরই বাসিন্দা এবং গৃহস্থালি ও ব্যবসা দুটোই পরিচালনা করতেন। তার কাজের পরিধি মূলত ট্রাক চালনা ও লোডিং-আনলোডিং সংক্রান্ত, যা স্থানীয় বাজারে বেশ পরিচিত।
মরগে পাঠানোর পর ময়নাতদন্তে দেখা গেছে, শিকারের গলা ও মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, একাধিক ছুরির আঘাতই মৃত্যুর প্রধান কারণ বলে অনুমান করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের ফলাফল শেষ হলে তা আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
শিকারের কন্যা সাদিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি জানান, বাবার কাজের দিন শেষে সাধারণত রাত এক থেকে দেড়টার মধ্যে বাড়ি ফিরতেন। শনিবার রাতে তিনি বাড়ি না আসায় উদ্বিগ্ন হয়ে সন্ধ্যায় ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, তবে কোনো সাড়া পাননি। পরের দিন সকালে ঘরের সামনে রক্তাক্ত দেহটি দেখতে পান, যা তাদের জন্য শক সৃষ্টি করে।
গাবতলী মডেল থানার ওসি আনিছুর রহমানের মতে, শিকারের দেহে ধারালো অস্ত্রের বহু আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং প্রাথমিকভাবে ব্যবসায়িক বিরোধকে হত্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, শিকারের ব্যবসা সংক্রান্ত কোনো বিরোধের পটভূমি তদন্তের মূল দিক।
পুলিশ বর্তমানে ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত সব প্রমাণ সংগ্রহ করে সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। থানা একাধিক টিম গঠন করে তদন্তে নিয়োজিত করেছে এবং সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করার জন্য অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া, স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, হত্যাকাণ্ডের শিকারের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুসারে, ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রাণহানি করা হলে তা ফৌজদারি আইনের অধীনে কঠোর শাস্তির আওতায় পড়বে। তদন্তের ফলাফল ও অপরাধীর সনাক্তকরণে অগ্রগতি হলে তা জনসাধারণের জানাতে হবে।
এই ঘটনার পর গাবতলী এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেবে বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পেট্রোল ও নজরদারি বাড়ানো হবে। ঘটনাটি স্থানীয় ব্যবসায়িক পরিবেশে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।



