ফিনল্যান্ডের চলচ্চিত্র নির্মাতা টেরো কউকোমা এবং টিমো ভুরেনসোলা নতুন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর ত্রয়ী “ডিপ রেড”-এর জন্য তহবিল সংগ্রহে লিপ্ত হয়েছেন। এই প্রকল্পটি রাজনৈতিক ব্যঙ্গময় স্পেস স্যাটায়ার হিসেবে পরিকল্পিত এবং পূর্বের “আয়রন স্কাই” সিরিজের সৃষ্টিকর্তাদের দলই এতে যুক্ত। ত্রয়ীটি সম্পূর্ণ নতুন মহাবিশ্বে স্থাপিত, তবে একই রকম অতিরঞ্জিত সুর বজায় রাখবে।
বাজেট প্রায় ১৫ মিলিয়ন ইউরো, অর্থাৎ প্রায় ১৬.২ মিলিয়ন ডলার, এবং শুটিং ২০২৭ সালে শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। তিনটি চলচ্চিত্র একসাথে ধারাবাহিকভাবে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে উৎপাদন খরচ কমে এবং গল্পের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। প্রথম অংশের মুক্তি ২০২৯ সালে, দ্বিতীয়টি ২০৩০ সালে এবং তৃতীয়টি ২০৩১ সালে প্রত্যাশিত।
গল্পের মূল ধারণা হল ১৯৫০-এর দশক থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নের গোপন উপনিবেশ মঙ্গলে গড়ে উঠেছে, যা পৃথিবীর নজরদারির বাইরে একটি আদর্শ সমাজ গড়ে তুলেছে। এই উপনিবেশটি শতাব্দীর পর শতাব্দী বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হওয়ায় নির্মাতারা এটিকে “একটি সত্যিকারের কার্যকরী কমিউনিস্ট ব্যবস্থা” হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। উপনিবেশের সীমানা, জীবনযাত্রা এবং সামাজিক কাঠামো সবই কল্পনাপ্রসূত হলেও, বাস্তবিক রাজনৈতিক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমসাময়িক আলোচনাকে উদ্দীপিত করার উদ্দেশ্য রয়েছে।
উপনিবেশের শাসন ব্যবস্থা একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা “ডিপ রেড” দ্বারা পরিচালিত, যা পুরনো সোভিয়েত চেস সুপারকম্পিউটার থেকে গড়ে উঠেছে। এই AI সম্পূর্ণ অ্যালগরিদমিক নিয়ন্ত্রণ এবং সর্বব্যাপী নজরদারির মাধ্যমে সমাজকে পরিচালনা করে। নির্মাতারা উল্লেখ করেছেন, এই সিস্টেমটি মার্কসবাদী স্বপ্নের মতো দেখালেও বাস্তবে এটি কঠোর নিয়ন্ত্রণের একটি রূপ।
ত্রয়ীর প্রথম অংশে বর্তমান সময়ে একটি আমেরিকান মহাকাশচারী মঙ্গলে দুর্ঘটনাক্রমে অবতরণ করে এবং গোপন শহরটি আবিষ্কার করে। তার অপ্রত্যাশিত আগমন উপনিবেশের গোপনীয়তা উন্মোচনের সূচনা করে এবং গল্পের প্রধান সংঘাতের ভিত্তি স্থাপন করে। এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মানবজাতি ও গোপন সমাজের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে।
স্ক্রিপ্টের রূপরেখা তৈরি করতে ভুরেনসোলা ফিনিশ লেখক জোহান্না সিনিসালো-র সঙ্গে কাজ করছেন, যিনি “আয়রন স্কাই” মূল চলচ্চিত্রের সহ-লেখকও ছিলেন এবং ফিনল্যান্ডের ফিনল্যান্ডিয়া পুরস্কারধারী লেখক। সিনিসালো গল্পের মৌলিক কাঠামো ও চরিত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের সহযোগিতা ফিনিশ বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর ঐতিহ্যকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করবে।
চূড়ান্ত স্ক্রিপ্টের কাজ যুক্তরাষ্ট্রের একজন অভিজ্ঞ চিত্রনাট্যকারের হাতে অর্পণ করা হবে, যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি উদাহরণ। এই চিত্রনাট্যকারের দায়িত্ব হল রূপরেখাকে পূর্ণাঙ্গ সংলাপ ও দৃশ্যপটে রূপান্তর করা। ফলে ত্রয়ীর ভাষা ও শৈলী বিশ্বজনীন দর্শকের জন্য সহজলভ্য হবে।
“ডিপ রেড” “আয়রন স্কাই” মহাবিশ্বের অংশ নয়, তবে উভয় প্রকল্পই অতিরঞ্জিত রসিকতা ও রাজনৈতিক ব্যঙ্গের মাধ্যমে দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করে। উভয় সিরিজই অপ্রচলিত শৈলীতে সামাজিক ও আদর্শগত প্রশ্ন উত্থাপন করে। এই সাদৃশ্যের ফলে নতুন ত্রয়ীটি পূর্বের ফ্যানবেসের কাছেও আকর্ষণীয় হতে পারে।
প্রযোজকরা উল্লেখ করেছেন, মঙ্গল গ্রহকে যুদ্ধক্ষেত্র বানিয়ে কমিউনিস্ট থিমকে পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে নতুন ধরনের সামাজিক-রাজনৈতিক সমালোচনা উপস্থাপন করা হবে। তারা বলেন, “মঙ্গল গ্রহে লাল হুমকি বেঁচে আছে” এবং এই ধারণা দিয়ে বিদ্যমান আদর্শের অতিরঞ্জন করা হবে। ফলে দর্শকরা হাস্যরসের মাধ্যমে গভীরতর চিন্তায় নিমজ্জিত হতে পারবেন।
শুটিং একসাথে তিনটি চলচ্চিত্রের জন্য করা হবে, যা উৎপাদন খরচ কমাতে এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। এই পদ্ধতি ফিনিশ চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি নতুন মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সময়ে, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বিনিয়োগকারীদের জন্য আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান করে।
প্রকল্পের তহবিল সংগ্রহের জন্য ইউরোপীয় চলচ্চিত্র তহবিল, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক বিতরণ চুক্তি ব্যবহার করা হবে বলে জানা যায়। তহবিলের বড় অংশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সৃজনশীল শিল্প সমর্থন প্রোগ্রাম থেকে আসবে। এছাড়া, ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও তীব্র, কারণ প্রকল্পটি উচ্চ প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা রাখে।
“ডিপ রেড” সিরিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম চলচ্চিত্রের মুক্তি ২০২৯ সালে, দ্বিতীয়টি ২০৩০ সালে এবং তৃতীয়টি ২০৩১ সালে হবে, যা বৈশ্বিক দর্শকদের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী আকর্ষণ তৈরি করবে। প্রতিটি অংশের মুক্তি এক বছরের ব্যবধানে হওয়ায় দর্শকের প্রত্যাশা বজায় থাকবে। ত্রয়ীর ধারাবাহিকতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ও বক্স অফিসে আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ফিনিশ চলচ্চিত্র শিল্প আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর বাজারে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে চাচ্ছে। উচ্চ বাজেট, আন্তর্জাতিক স্ক্রিপ্ট টিম এবং বৈশ্বিক বিতরণ নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে প্রকল্পটি একটি মাইলফলক হতে পারে। ত্রয়ীর সাফল্য ফিনল্যান্ডের অন্যান্য সৃষ্টিকর্তাদের জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলে দেবে।
দর্শকরা এখন থেকে ত্রয়ীর অগ্রগতি ও প্রকাশনা সংক্রান্ত তথ্যের অপেক্ষা করতে পারেন, যা আগামী বছরগুলোতে চলচ্চিত্র জগতের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে। সামাজিক মিডিয়া ও চলচ্চিত্র সংবাদপত্রে নিয়মিত আপডেট প্রকাশিত হবে। এই প্রত্যাশা চলচ্চিত্রের প্রি-প্রমোশনকে আরও শক্তিশালী করবে।
সারসংক্ষেপে, “ডিপ রেড” ত্রয়ীটি ফিনিশ সৃষ্টিকর্তাদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে পুনরায় উপস্থিতির লক্ষ্যে একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প, যার মাধ্যমে বিজ্ঞান কল্পকাহিনী, রাজনৈতিক ব্যঙ্গ এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন একসাথে মিশে নতুন দর্শনীয় অভিজ্ঞতা তৈরি হবে।



