26 C
Dhaka
Sunday, February 15, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধনোয়াখালীর হাতিয়ায় গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ তদন্ত শুরু

নোয়াখালীর হাতিয়ায় গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ তদন্ত শুরু

নোয়াখালী জেলায় হাতিয়া ভোটের বিরোধের পর গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, ফলে পুলিশ তদন্তে হস্তক্ষেপ করেছে। অভিযোগকারী নারী নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি, তিনি শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার কারণে আক্রমণের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানান, কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগের পোস্ট দেখা মাত্রই তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালু করা হয়েছে।

অভিযোগকারী নারীর বলা অনুযায়ী, ভোটের পর শুক্রবার রাত ১১টার দিকে তিনজন অপরিচিত ব্যক্তি তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। তার স্বামীকে বেঁধে রাখা হয়, একজন তাকে ধর্ষণ করে এবং বাকি দুজন পাহারা দেয়। এই ঘটনার পর তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন।

অভিযুক্ত বিএনপি কর্মীর দাবি, ধর্ষণের সময় তিনি চানন্দি ইউনিয়নে না, বরং নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি জানান, শাপলা কলির পক্ষে কাজ করতে অস্বীকারের ফলে তাকে পিটিয়ে আঘাত করা হয়েছিল, ফলে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে পারেননি।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাস্থলে দুই দফা মারামারির তথ্য পাওয়া গেছে, তবে স্থানীয় মানুষদের কাছ থেকে ধর্ষণ সংক্রান্ত কোনো স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে হাসপাতালে নারীর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিতে দুই রকম তথ্যের পার্থক্য দেখা যায়।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, শনিবার দুপুরে মারামারির ফলে এক নারীসহ কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি হন। তিন ঘণ্টা পরে বিকাল ৫টায় ওই নারী পুনরায় জরুরি বিভাগে এসে ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা জানান।

তবে এখনো কোনো ফার্মাল অভিযোগ দায়ের না হওয়ায় হাসপাতাল ফরিদ চৌধুরীর দলকে শারীরিক পরীক্ষা করাতে পারছে না। তিনি উল্লেখ করেন, ধর্ষণ ও মারামারির উভয়ই “পুলিশ কেইস” হওয়ায় নারীর চিকিৎসা লেবার কমপ্লেক্সে চালু রাখা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের এনসিপি থেকে নির্বাচিত আব্দুল হান্নান মাসউদ এবং জেলা জামায়াতের আমীর ইসহাক খন্দকার হাসপাতালে গিয়ে নারীর অবস্থা দেখেছেন।

হান্নান মাসউদ দাবি করেন, শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার কারণে নারীর ওপর ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে এবং হাসপাতাল ও পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বে ত্রুটি রয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিন্দা করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন জানান, পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে হাসপাতালে গিয়ে নারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি যোগ করেন, স্থানীয় লোকজন দুই দফা মারামারির কথা জানিয়েও ধর্ষণের বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি।

প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে দুইবার হিংসাত্মক সংঘর্ষ ঘটেছে, তবে ধর্ষণের প্রমাণ এখনও স্পষ্ট নয়। এখন পর্যন্ত কোনো ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়নি, কারণ ফার্মাল অভিযোগ দায়ের না হওয়ায় আদালতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া অগ্রসর হয়নি।

পুলিশের মতে, তদন্ত চলাকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সমন্বয় বাড়ানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ফরেনসিক ও সাক্ষ্য সংগ্রহের মাধ্যমে মামলাটি আইনি পথে এগিয়ে নেওয়া হবে। বর্তমানে নারীকে হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে আপডেট দেওয়া হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments