বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা সম্পর্কে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বিধানগুলো সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। এই বিধানগুলো সংসদ সদস্যদের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার কাঠামোকে স্পষ্ট করে।
বহুমুখী সুবিধা “সদস্য পার্লামেন্ট (বেতন ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩” এর অধীনে নির্ধারিত, যা সময়ে সময়ে সংশোধন করা হয়েছে। আইনগত নথি অনুযায়ী, প্রতিটি সংসদ সদস্যের জন্য নির্দিষ্ট মাসিক ও এককালীন ভাতা নির্ধারিত আছে।
প্রতিটি সংসদ সদস্যকে মাসিক ভিত্তিতে ৫৫,০০০ টাকা মৌলিক বেতন প্রদান করা হয়। এই বেতন পুরো মেয়াদ জুড়ে অপরিবর্তিত থাকে এবং সদস্যের মৌলিক আর্থিক ভিত্তি গঠন করে।
কাজের দায়িত্ব, জনসম্পর্ক ও নির্বাচনী এলাকার সংগঠনমূলক কার্যক্রমের জন্য অতিরিক্ত ১২,৫০০ টাকা মাসিক ভাতা প্রদান করা হয়। এই ভাতা সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় কার্যকরী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
সদস্যদের জন্য ৫,০০০ টাকার একটি সমৃদ্ধি ভাতা নির্ধারিত, যা ব্যক্তিগত খরচের কিছু অংশ পূরণে ব্যবহার করা যায়। এই ভাতা মূল বেতন ও কাজের ভাতার পাশাপাশি প্রদান করা হয়।
গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাসের আমদানি সংক্রান্ত বিশেষ সুবিধা রয়েছে। মেয়াদে কোনো কাস্টমস ডিউটি, ভ্যাট, উন্নয়ন সর্চার্জ বা আমদানি পারমিট ফি না দিয়ে গাড়ি আনা সম্ভব, এবং পাঁচ বছর পর একই শর্তে নতুন গাড়ি আমদানি করা যায়।
পরিবহন সংক্রান্ত খরচ মেটাতে মাসিক ৭০,০০০ টাকা ভাতা প্রদান করা হয়। এই ভাতা গাড়ির জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ, চালকের বেতন এবং অন্যান্য যাতায়াত খরচ অন্তর্ভুক্ত করে।
নির্বাচনী এলাকার অফিস পরিচালনার জন্য প্রতি মাসে ১৫,০০০ টাকা অতিরিক্ত ভাতা প্রদান করা হয়। এই অর্থ অফিসের ভাড়া, সরঞ্জাম ও কর্মী ব্যয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়।
লন্ড্রি ও গৃহস্থালী সামগ্রীর জন্য মাসিক ১,৫০০ টাকা ভাতা এবং অতিরিক্ত ৬,০০০ টাকা রান্নাঘরের বাসন, চাদর, টয়লেটের সামগ্রী ইত্যাদির জন্য নির্ধারিত। এই ভাতা সদস্যদের দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়তা করে।
সদস্যদের পার্লামেন্ট সেশন বা কমিটি মিটিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য ভ্রমণ ভাতা প্রদান করা হয়। এ ভাতা সর্বোচ্চ ক্লাসের টিকিটের ১.৫ গুণ পর্যন্ত এবং সড়ক যাত্রার জন্য প্রতি কিলোমিটারে ১০ টাকা পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত।
দায়িত্ব পালনকালে দৈনিক ভাতা প্রদান করা হয়, যার মধ্যে বাসস্থানের জন্য ৭৫০-৮০০ টাকা এবং যাতায়াতের জন্য ৭৫-২০০ টাকা অন্তর্ভুক্ত। এই ভাতা উপস্থিতি রেকর্ডের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।
বছর শেষে সদস্যদের জন্য একটি বার্ষিক ভ্রমণ ভাতা নির্ধারিত, যা আন্তর্জাতিক বা দেশীয় সফরের জন্য ব্যবহার করা যায়। যদিও নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রকাশিত হয়নি, তবে এটি সদস্যদের কাজের পরিধি বিস্তারে সহায়ক।
বিপক্ষের দলগুলো এই বিস্তৃত ভাতা কাঠামোকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা উল্লেখ করে, বৃহৎ আর্থিক ব্যয় ট্যাক্সদাতার উপর চাপ বাড়াতে পারে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এইসব সুবিধা নিয়ে ভবিষ্যতে পুনর্মূল্যায়ন বা সংশোধনের সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই আর্থিক দায়িত্ব ও কার্যকরী প্রয়োজনের মধ্যে সমতা রক্ষার আহ্বান জানাচ্ছে।



