ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখরভাবে শেষ হওয়ার পর, ভোটের দুই দিন পর ৩০টি জেলায় ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। মানবাধিকার সমর্থন সংস্থা (HRSS) রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে জানায়, এই ঘটনায় তিনজনের প্রাণ ত্যাগ এবং তিনশের বেশি মানুষ আহত হয়েছে।
HRSS এর নির্বাহী পরিচালক এজাজুল ইসলাম জানান, দুই দিনের মধ্যে দুইশেরও বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্তৃত। সংস্থা উল্লেখ করে, এই ঘটনাগুলো নির্বাচনী সময়ের উত্তেজনা এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রার্থীর সমর্থকদের হস্তক্ষেপের ফলে ঘটেছে।
মুন্সিগঞ্জ ও বাগেরহাটে দুইজন যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন, আর ময়মনসিংহে একটি শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। নোয়াখালিতে একটি ধর্ষণের অভিযোগও দায়ের হয়েছে, যা স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
সহিংসতায় আহতদের সংখ্যা তিনশের বেশি, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। আহতদের মধ্যে কিছু গুরুতর আঘাতের শিকার, যার ফলে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের প্রয়োজন হতে পারে।
HRSS আরও জানায়, নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ৪৮ জন ভোট গণনা কক্ষে প্রবেশের অনুমতি পেতে ব্যর্থ হয়েছেন বা প্রবেশের পথে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। এই বাধা প্রধানত নির্বাচনী কর্মকর্তাদের এবং কিছু প্রার্থীর সমর্থকদের দ্বারা আরোপিত বলে সংস্থা দাবি করে।
সংস্থার মতে, সহিংসতার বেশিরভাগ ঘটনার পেছনে বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি (BNP), জামাত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা জড়িত। এই দলগুলোর কিছু সদস্যের অংশগ্রহণের সূচক পাওয়া গেছে, যদিও সকল দায়িত্ব স্বীকার করা হয়নি।
প্রায় ৩৫০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস এবং গৃহস্থালিতে হামলা বা অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের মধ্যে ছোট দোকান, সরকারি অফিস এবং ব্যক্তিগত বাড়ি অন্তর্ভুক্ত, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
BNP এর প্রতিনিধিরা দাবি করেন, তাদের সমর্থকরা কোনো সংগঠিত সহিংসতায় অংশগ্রহণ করেননি এবং তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার জন্য শাসনকর্তা দলকে দোষারোপ করছেন। তারা বলেন, তাদের কর্মীরা কেবলমাত্র নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।
জামাতের স্থানীয় নেতারা জানান, তাদের কিছু কর্মী নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত জোরের শিকার হয়েছে, যা উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। তারা দাবি করেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার অযথা ব্যবহার তাদের সমর্থকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়াশীলতা সৃষ্টি করেছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর দলও উল্লেখ করে, পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা না থাকায় কিছু গোষ্ঠী সুযোগ নিয়ে সহিংসতা বাড়িয়ে তুলেছে। তারা সকল পক্ষকে আহ্বান জানায়, যেন নির্বাচনী পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত রাখা যায়।
এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন এই ঘটনার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি, তবে পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করছেন যে এই ধরনের সহিংসতা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা ক্ষয় করতে পারে। সংস্থা সকল দায়িত্বশীলকে দ্রুত তদন্ত এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
HRSS শেষ করে উল্লেখ করে, নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সহিংসতার দায়ী ব্যক্তিদের আইনি দায়িত্ব আরোপ করা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এই পদক্ষেপগুলোই দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখবে।



