ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই শীতকালে কম্পিউটার সায়েন্স (CS) বিভাগের ভর্তি সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। সিস্টেম জুড়ে CS ভর্তি গত বছর ৩% কমে, আর এই বছর আরও ৬% হ্রাস পেয়ে মোট ৯% কমে গেছে, যা ডট‑কম ক্র্যাশের পর প্রথমবারের মতো। একই সময়ে, জাতীয় স্তরে কলেজ ভর্তি মোট ২% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ন্যাশনাল স্টুডেন্ট ক্লিয়ারিংহাউস রিসার্চ সেন্টারের জানুয়ারি তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়।
এই প্রবণতা দেখায় যে ছাত্রছাত্রীরা ঐতিহ্যবাহী CS ডিগ্রি থেকে সরে যাচ্ছে। তবে একমাত্র ব্যতিক্রম হল ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, স্যান ডিয়েগো (UCSD), যেখানে এই শীতকালে বিশেষভাবে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) কেন্দ্রিক একটি নতুন মেজর চালু করা হয়েছে। এই পরিবর্তনটি সাময়িক ধাক্কা হিসেবে দেখা হতে পারে, তবে ভবিষ্যতে শিক্ষার দিকনির্দেশনা কীভাবে গড়ে উঠবে তা নিয়ে বিশ্লেষণ করা জরুরি।
চীনের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে এআই শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখাচ্ছে। MIT টেকনোলজি রিভিউর একটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে চীনের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় এআইকে অপরিহার্য অবকাঠামো হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং শিক্ষার্থীদের এআই টুল ব্যবহারকে দৈনন্দিন কাজের অংশ করে তুলেছে। প্রায় ৬০% শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রতিদিন একাধিকবার এআই সফটওয়্যার ব্যবহার করেন। জেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয় এআই কোর্সকে বাধ্যতামূলক করেছে, আর তসিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় নতুন আন্তঃবিষয়ক এআই কলেজ গঠন করেছে।
চীনে এআই দক্ষতা এখন আর ঐচ্ছিক নয়, বরং মৌলিক প্রয়োজনীয়তা হিসেবে বিবেচিত। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই প্রবণতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চেষ্টা করছে। গত দুই বছরে দেশজুড়ে বহু বিশ্ববিদ্যালয় এআই-নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম চালু করেছে। উদাহরণস্বরূপ, এমআইটির “এআই ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ” মেজর এখন ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেজর হিসেবে বিবেচিত।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (USF) শীত সেমিস্টারে এআই ও সাইবারসিকিউরিটি নিয়ে নতুন কলেজে ৩,০০০ের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করেছে। একই সময়ে, ইউনিভার্সিটি অ্যাট বাফেলো “এআই ও সোসাইটি” নামে একটি নতুন বিভাগ চালু করেছে, যেখানে সাতটি বিশেষায়িত স্নাতক ডিগ্রি প্রোগ্রাম রয়েছে এবং দরজা খোলার আগে ২০০টিরও বেশি আবেদন পেয়েছে।
এই পরিবর্তনগুলো সবসময় মসৃণভাবে এগোয় না। নর্থ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয় চ্যাপেল হিল (UNC) এর চ্যান্সেলর লি রবার্টসের সঙ্গে আলাপের সময় উল্লেখ করা হয়েছে যে কিছু প্রতিষ্ঠান এআই-ভিত্তিক পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন আনার সময় কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও এআই শিক্ষা সম্প্রসারণে ত্বরান্বিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, স্ট্যানফোর্ড ও হার্ভার্ডের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এআই গবেষণা ও শিক্ষার জন্য নতুন ল্যাব ও কেন্দ্র স্থাপন করেছে, যা শিক্ষার্থীদের বাস্তব প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে CS ভর্তি হ্রাসের পেছনে চাকরির বাজারের পরিবর্তনও ভূমিকা রাখে বলে ধারণা করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে CS স্নাতকদের চাকরির সুযোগে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলেছে। ফলে, এআই-ভিত্তিক কোর্সগুলোকে অধিক আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈশ্বিকভাবে, এআই দক্ষতা অর্জন এখন কর্মসংস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হয়ে উঠেছে। চীনের শিক্ষাব্যবস্থা এই দিকটি দ্রুত গ্রহণ করেছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো পেছনে আছে, তবে দ্রুতই ধারা পরিবর্তন করতে পারে।
শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ: যদি আপনি CS বা এআই ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তবে বর্তমান প্রবণতা বিবেচনা করে এআই টুল ও প্রযুক্তি সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান অর্জন করা জরুরি। অনলাইন কোর্স, ওপেন সোর্স প্রকল্পে অংশগ্রহণ এবং ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করা ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দেবে।
আপনার মতামত কী? আপনি কি মনে করেন ঐতিহ্যবাহী CS ডিগ্রি এখনও প্রাসঙ্গিক, নাকি এআই-নির্দিষ্ট প্রোগ্রামগুলোই ভবিষ্যতের শিক্ষার মূলধারায় পরিণত হবে? আপনার মন্তব্য শেয়ার করুন।



