লুসি ও পিপা ট্যাল্যান্ট দম্পতি ব্রাইটনের চর্চিল স্কোয়ারের কাছাকাছি ‘ক্রসবার’ নামে একটি স্পোর্টস বার খুলেছেন, যা যুক্তরাজ্যের প্রথম নারী‑নির্দিষ্ট স্পোর্টস বার হিসেবে পরিচিত। বারটি ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দরজা খুলবে এবং নারী ক্রীড়া প্রেমীদের জন্য নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। দুজনেই বিবাহিত এবং একসাথে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, যেখানে লুসি ডিআইওয়াই (DIY) কাজের প্রতি বিশেষ আগ্রহী। তাদের উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল পুরুষ‑প্রধান স্পোর্টস বারে নারীরা যে অস্বস্তি অনুভব করে তা দূর করা।
বাহ্যিক দিক থেকে বারটির সাদা রঙের দেয়ালে কালো রঙের বড় ‘Crossbar’ লোগো এবং দুইটি স্টাইলাইজড ক্রস চিহ্ন স্পষ্টভাবে দেখা যায়, যা রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে। প্রবেশদ্বারের পাশে লুসি নিজে তৈরি করা একটি সরু তাক স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে গ্রাহকরা বাইরে বসে সময় কাটাতে পারে। এই তাকটি দ্রুতই স্থানীয় নারীদের ফটো স্পট হিসেবে জনপ্রিয়তা পায় এবং সামাজিক মিডিয়ায় ‘এখন বাইরে একটা আছে’ শিরোনামে ছবি শেয়ার হয়। তদুপরি, তাকের পাশে দু’জন তরুণী পার হয়ে মন্তব্য করে, “এটা একটা লেসবিয়ান ক্লাবের মতো”, যা লুসি ও পিপা দুজনের হাসি ফোটায় এবং অনলাইন আলোচনায় রূপান্তরিত হয়।
দম্পতি ইনস্টাগ্রামে মাত্র ১২জন বন্ধুর কাছে বারটি খোলার পরিকল্পনা জানিয়ে পোস্ট করলেও, পোস্টটি একবারে প্রচুর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ডিসেম্বরের শুরুতে ঘোষণার পর থেকে অনুসারীর সংখ্যা ১৭,০০০‑এর বেশি পৌঁছেছে, যদিও রেনোভেশন কাজ এখনও চলমান। পোস্টে তারা একবারের শুটিং করে ভিডিও আপলোড করেন এবং বলেন, “কেউ দেখবে না, তাই আপলোড করে রাখি, পরে স্বাভাবিক পোস্ট করব।” তবে ভিডিওটি অপ্রত্যাশিতভাবে বেশি দর্শক পায় এবং বারটির ধারণা দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়।
বারটির অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা এখনও সম্পূর্ণ হয়নি; টেবিল ও চেয়ার স্থাপন বাকি, এবং প্লাম্বার ও ইলেকট্রিশিয়ান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দুইটি কুকুরকে নিরাপদে রাখতে বাক্সগুলো কৌশলগতভাবে রাখা হয়েছে, যাতে তারা রেনোভেশন এলাকায় প্রবেশ না করতে পারে। উদ্বোধনের আগে একটি ট্যুরে দেখা যায়, বারটির উপরে দুটি ফাংশন রুম রয়েছে, যার একটি “দ্য ক্লাবহাউস” নামে পরিচিত। গার্ডিয়ানের সঙ্গে নেওয়া সাক্ষাৎকারও এই রুমে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মালিকদের দৃষ্টিভঙ্গি ও পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে শেয়ার করা হয়।
বারটির নাম ‘ক্রসবার’ ক্রীড়া প্রেমীদের জন্য একটি নিরাপদ স্থান তৈরি করার ইচ্ছা থেকে এসেছে; এখানে নারী দর্শকরা পুরুষ‑প্রধান স্পোর্টস বারে যে অস্বস্তি অনুভব করতে পারে তা কমাতে চাওয়া হয়েছে। বারটিতে লাইভ স্ক্রিনিং, বিশেষ পানীয় ও খাবার মেনু থাকবে, যা বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টের সময় দর্শকদের আকৃষ্ট করবে। স্থানীয় ক্রীড়া ক্লাব ও সমর্থক গোষ্ঠীকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দম্পতি আশা করেন, এই উদ্যোগ নারীদের ক্রীড়া সংস্কৃতিতে অংশগ্রহণ বাড়াবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ প্রকল্পের জন্য মডেল হিসেবে কাজ করবে।
উদ্বোধনের দিন ৬ ফেব্রুয়ারি, ‘ক্রসবার’ পূর্ণভাবে চালু হবে এবং প্রথম রাতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ম্যাচের লাইভ ট্রান্সমিশন দেখার সুযোগ থাকবে। বারটির অভ্যন্তরে নারীদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা, সুরক্ষিত গোপনীয়তা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া, বারটির ছাদে একটি ছোট গ্রীন স্পেস তৈরি করা হয়েছে, যেখানে গ্রাহকরা হালকা খাবার ও পানীয় উপভোগ করতে পারবেন। এই সব বৈশিষ্ট্যগুলোকে মিলিয়ে ‘ক্রসবার’ নারী ক্রীড়া প্রেমীদের জন্য একটি নতুন সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
‘ক্রসবার’ এর সাফল্য কেবল ব্রাইটনেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি যুক্তরাজ্যের অন্যান্য শহরে নারীদের জন্য স্পোর্টস বার সংস্কৃতি গড়ে তোলার সম্ভাবনা উন্মোচন করে। দম্পতি ইতিমধ্যে ভবিষ্যতে অন্যান্য শহরে শাখা খোলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছেন, তবে তা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে তারা বারটির কার্যক্রম স্থিতিশীল করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন এবং গ্রাহকদের প্রতিক্রিয়া সংগ্রহের মাধ্যমে সেবা উন্নত করছেন। এই উদ্যোগটি নারীদের ক্রীড়া পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্য ও সমতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংক্ষেপে, লুসি ও পিপা ট্যাল্যান্টের ‘ক্রসবার’ ব্রাইটনে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, যেখানে নারী ক্রীড়া ভক্তরা নিরাপদে তাদের পছন্দের খেলাগুলো উপভোগ করতে পারবেন। সামাজিক মিডিয়ায় দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন, রেনোভেশন চলাকালীন সৃষ্ট সৃজনশীলতা এবং স্পোর্টস বার সংস্কৃতিতে নারীদের অন্তর্ভুক্তি এই প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্য। ভবিষ্যতে এই ধরনের উদ্যোগের বিস্তার নারীদের ক্রীড়া জগতে অংশগ্রহণ বাড়াবে এবং সমান সুযোগের পরিবেশ গড়ে তুলবে।



