মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিসভা গত সোমবার ‘ব্রেভ বার্মা অ্যাক্ট’ নামে একটি আইনগত প্রস্তাব পাস করেছে, যা মিয়ানমার সামরিক জাঁতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে এবং দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে সমর্থন করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। এই বিলটি ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের আইনপ্রণেতা একত্রে উপস্থাপন করেন এবং হাউসের অধিকাংশের সমর্থন পায়।
বিলটি প্রথমবারের মতো মে ২০২৩-এ মিশিগানের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা রেপ. হুইজেঙ্গা দ্বারা উপস্থাপিত হয়, যার পূর্ণ নাম ছিল ‘ব্রিংগিং রিয়েল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ভায়া এনফোর্সমেন্ট ইন বার্মা অ্যাক্ট’। এরপর ডেমোক্র্যাট টিম কেনেডি সহ অন্যান্য আইনপ্রণেতা এটিকে পুনরায় সংশোধন করে ‘ব্রেভ বার্মা অ্যাক্ট’ শিরোনামে হাউসে নিয়ে আসেন।
হাউসের ভোটে বিলটি অনুমোদিত হওয়ার পর এখন এটি সিনেটের সমীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে। সেনেটের অনুমোদন পেলে বিলটি প্রেসিডেন্টের টেবিলে পৌঁছাবে, যেখানে স্বাক্ষরের মাধ্যমে এটি আইনগত শক্তি পাবে।
আইনটি স্বাক্ষরের পর প্রেসিডেন্টকে মিয়ানমারের তেল, গ্যাস, জেট‑ফুয়েল এবং দেশের প্রধান আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মিয়ানমার ইকোনমিক ব্যাংকের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা প্রদান করবে। এই নিষেধাজ্ঞা সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং জাঁতার আর্থিক প্রবাহকে সীমাবদ্ধ করার উদ্দেশ্য বহন করবে।
বিলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা হল মিয়ানমারের জন্য একটি বিশেষ দূত নিযুক্ত করার অনুমতি। এই দূতকে রাষ্ট্রদূত পদমর্যাদার বিশেষ অধিকার প্রদান করা হবে, যাতে তিনি মানবিক সহায়তা, কূটনৈতিক সংলাপ এবং জাঁতার মানবাধিকার লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারেন।
বিলটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী পরিচালককে বাধ্য করবে যে, মিয়ানমার স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কাউন্সিল (SAC) ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত দেশের অংশীদারিত্ব বাড়ানোর যে কোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করতে এবং বিপক্ষে ভোট দিতে। SAC হল ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা দখল করা জাঁতা সরকার, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক নিন্দার মুখে রয়েছে।
মিয়ানমারে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অং সান সু চির দলসহ বেশিরভাগ গণতান্ত্রিক দলকে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়া হয়, ফলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনের বৈধতা প্রত্যাখ্যান করেছে। এই প্রেক্ষাপটে ‘ব্রেভ বার্মা অ্যাক্ট’ জাঁতার রাজনৈতিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক শক্তিকে সমর্থন করার একটি কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।
বিলের অন্যতম সহ-প্রস্তাবক নিউ ইয়র্কের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা টিম কেনেডি উল্লেখ করেন, এই আইনটির মূল উদ্দেশ্য হল জাঁতার আর্থিক সম্পদ সংগ্রহের পথ বন্ধ করা এবং মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা। তিনি বলেন, কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং বিশেষ দূত নিয়োগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একতাবদ্ধতা দৃঢ় হবে।
আইনটি যদি সেনেটের অনুমোদন পায়, তবে এটি মিয়ানমার জাঁতার ওপর আর্থিক ও সামরিক চাপের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থনকে শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে ভোটের অধিকার ব্যবহার করে জাঁতার বৈশ্বিক আর্থিক সংযোগকে সীমাবদ্ধ করার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
এই প্রস্তাবের পরবর্তী ধাপ হল সিনেটের আলোচনা এবং ভোট, যার ফলাফল নির্ধারণ করবে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ানমার নীতি কতটা কঠোর হবে। যদি আইনটি শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষরিত হয়, তবে পরবর্তী সাত বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নীতি এবং কূটনৈতিক কৌশল মিয়ানমার জাঁতার ওপর কেন্দ্রীভূত থাকবে, যা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতকে প্রভাবিত করবে।



