যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে শুরুর পর ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়ছে। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে মার্কো রুবিওর বক্তব্যে ইউরোপের সঙ্গে সহযোগিতা জোর দেওয়া হয়েছে, একই সময়ে গণতান্ত্রিক দল ট্রাম্পের তিন বছরের মধ্যে পদত্যাগের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছে।
ট্রাম্পের শাসনকালে গ্রিনল্যান্ডের অধিগ্রহণের ঘোষণা, শুল্ক নীতি এবং মিত্র দেশগুলোর প্রতি বিদ্রুপমূলক মন্তব্য ইউরোপীয় নেতাদের উদ্বেগের মূল কারণ। এই বিষয়গুলো ইতিমধ্যে মার্কিন সরকার ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
গণতান্ত্রিক দলের প্রতিনিধিরা ইউরোপীয় নেতাদের আশ্বস্ত করতে উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্পের শাসনকাল তিন বছরের মধ্যে শেষ হবে। তারা যুক্তি দিয়েছেন, এই সময়সীমা পার হয়ে মার্কিন সরকার ইউরোপের সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব বজায় রাখবে।
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে মার্কো রুবিও, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ইউরোপের সঙ্গে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার বক্তব্যের কেন্দ্রে ট্রান্সআটলান্টিক জোটকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং পারস্পরিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা ছিল।
ইউরোপীয় নেতারা রুবিওর ভাষণ শোনার পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, বিশেষ করে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নীতিমালা ও মন্তব্যের প্রভাব নিয়ে। তারা জোর দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তন না হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
রুবিওর আশ্বাস সত্ত্বেও, ইউরোপীয় নেতাদের সব উদ্বেগ দূর হয়নি। কিছু দেশ এখনও ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডের দাবি এবং শুল্ক নীতির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে সতর্কতা বজায় রেখেছে।
গত বছরের একই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইউরোপীয় নেতাদের তীব্র সমালোচনা করেন, যা দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। তার মন্তব্যের ফলে ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।
রুবিও আবারও জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন সরকার ইউরোপের সঙ্গে পারস্পরিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা পুনরায় শক্তিশালী করতে চায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতি ইউরোপের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
ক্যালিফোর্নিয়া গভর্নর গ্যাভিন নিউসম সম্মেলনে উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের শাসনকাল অস্থায়ী এবং তিনি তিন বছরের মধ্যে পদত্যাগ করবেন। তার বক্তব্যে ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
নিউসমের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ডজনখানেক মার্কিন আইন প্রণেতা ও গভর্নর, যাদের বেশিরভাগই গণতান্ত্রিক দলের সঙ্গে যুক্ত। তারা সম্মিলিতভাবে ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্বের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
নিউ হ্যাম্পশায়ারের গণতান্ত্রিক সিনেটর জিন শাহীন বলেন, ইউরোপীয় মিত্রদের গুরুত্ব স্বীকার করা এবং তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রাখা মার্কিন নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। তিনি ইউরোপের সঙ্গে সংহতির বার্তা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন।
রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস যুক্তি দেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্ক কোনো গৃহযুদ্ধের স্তরে নেই। তিনি আমেরিকান রাজনীতির বক্তৃতাবাজি মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে সতর্ক করেন।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ট্রাম্পের শাসনকালের শেষের দিকে ইউরোপীয় দেশগুলো মার্কিন নীতির পরিবর্তনের জন্য কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে। তবে বর্তমান সময়ে গণতান্ত্রিক দল ও গ্যাভিন নিউসমের আশ্বাস ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি প্রদান করেছে এবং ট্রান্সআটলান্টিক জোটের পুনর্জীবনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত করেছে।



