৩৭ বছর বয়সী জোয়েল ফিয়ারন, যিনি একসময় যুক্তরাজ্যের দ্রুততম দৌড়বিদ হিসেবে পরিচিত, এবার জামাইকার ববস্লে দলে তৃতীয় শীতকালীন অলিম্পিকের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ২০১৬ রিও অলিম্পিকের নির্বাচন শেষের ঠিক পরে তিনি ১০ সেকেন্ডের নিচে ১০০ মিটার দৌড়ে ৯.৯৬ সেকেন্ডের সময় রেকর্ড করেন, তবে সময়সীমা মিস হওয়ায় তিনি সেই গ্রীষ্মকালীন খেলায় অংশ নিতে পারেননি।
এই রেকর্ডটি ইংল্যান্ড অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে বেডফোর্ডে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি ৯.৯৬ সেকেন্ডে বিজয়ী হন। এই ফলাফল যুক্তরাজ্যের মাটিতে রেকর্ড করা দ্রুততম চারটি সময়ের মধ্যে একটি, যা তাকে দেশের শীর্ষ স্প্রিন্টারদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
দৌড়ের পরই রিও ২০১৬ নির্বাচনের চূড়ান্ত তারিখ অতিক্রান্ত হওয়ায় ফিয়ারনকে ব্রিটিশ দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। তবুও তার পারফরম্যান্স স্পোর্টস জগতে বিস্ময় সৃষ্টি করে, কারণ তিনি তখন পর্যন্ত ব্রিটিশ সুপারস্টার স্প্রিন্টারদের মধ্যে ছিলেন না।
কোভেন্ট্রিতে জন্ম নেওয়া ফিয়ারন তার ক্রীড়া ক্যারিয়ার গড়ার সময় বিভিন্ন কাজের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখেন। তিনি এক সময় পিজ্জা ডেলিভারি কাজ করতেন, যেখানে দিনভর ডায়মন্ড লিগের রেসে অংশ নিতেন এবং সন্ধ্যায় স্থানীয় পিজ্জা সরবরাহের দায়িত্ব নিতেন। এই দ্বৈত জীবনযাপন তার কঠোর পরিশ্রমের প্রমাণ।
২০১৩ সালে লন্ডন ডায়মন্ড লিগে তিনি অ্যাডাম জেমিলি ও হ্যারি আইকিনেস‑অ্যারিয়েটির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং একই বছরে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রিটিশ রিলে দলে অন্তর্ভুক্ত হন। এই অভিজ্ঞতা তার স্প্রিন্টিং দক্ষতাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করে।
স্প্রিন্টিংয়ের পাশাপাশি ফিয়ারন ববস্লে খেলায়ও মনোনিবেশ করেন এবং গত পনেরো বছর ধরে গ্রেট ব্রিটেন, সুইজারল্যান্ড এবং জামাইকা ত্রয়ী দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তার বহুমুখী ক্যারিয়ার তাকে শীতকালীন ক্রীড়ার বিশেষজ্ঞ করে তুলেছে।
সোচি ২০১৪ শীত অলিম্পিকে তিনি ব্রিটিশ চারজনের দলকে ব্রোঞ্জ পদক জিততে সহায়তা করেন। তবে সেই পদকটি পাঁচ বছর পরে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের ডোপিং স্ক্যান্ডালের পর পুনরায় প্রদান করা হয়, যা তার ক্যারিয়ারে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত।
সোচি পরবর্তী সময়ে ফিয়ারন ববস্লে থেকে সাময়িক অবসর নেন, তবে ২০২২ সালে জামাইকার ববস্লে ফেডারেশন তাকে পুনরায় দলভুক্ত করে। এই সুযোগে তিনি আবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরে আসতে সম্মত হন, যা তার পুনরুজ্জীবনের সূচনা করে।
জামাইকার ববস্লে দল ২০২৬ শীত অলিম্পিকের জন্য প্রস্তুত, যেখানে ফিয়ারন প্রথমবারের মতো ক্যারিবিয়ান দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং একই সঙ্গে তার তৃতীয় অলিম্পিক যাত্রা সম্পন্ন করবেন। তার অভিজ্ঞতা তরুণ দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফিয়ারন উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালে সাব‑১০ সেকেন্ডের দৌড় তার জন্য এক স্বপ্নের মতো ছিল, কারণ তিনি তখন ব্রিটিশ সুপারস্টারদের মধ্যে ছিলেন না। তবু সেই ফলাফল দেখিয়েছে যে অপ্রত্যাশিত সাফল্য সম্ভব, যদি যথেষ্ট পরিশ্রম ও সুযোগ থাকে।
তিনি আরও বলেন, তার ক্রীড়া জীবনের পাশাপাশি পিজ্জা ডেলিভারি কাজের অভিজ্ঞতা তাকে বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে, যা তার দৃঢ়তা ও সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করেছে। এই গল্পটি অনেক তরুণ ক্রীড়াবিদকে অনুপ্রাণিত করতে পারে।
শীত অলিম্পিকের সূচি অনুযায়ী, জামাইকার ববস্লে দল ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে প্রারম্ভিক হিটে অংশ নেবে, এবং পরবর্তী সপ্তাহে চূড়ান্ত রেস অনুষ্ঠিত হবে। ফিয়ারনের উপস্থিতি দলকে অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব প্রদান করবে, যা তাদের পারফরম্যান্সকে উন্নত করতে সহায়তা করবে।



