মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র “জাতিসংঘের শান্তির নীতি রক্ষা” সম্পর্কিত বক্তব্যের পর, তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং চীনকে আসল হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে তার মন্তব্যের কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। লিনের বিবৃতি রোববার প্রকাশিত হয়, যেখানে তিনি চীনের দাবি প্রত্যাখ্যান করে তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের একমাত্র অধিকার তার জনগণের ওপর থাকবার কথা জোর দিয়েছেন।
ওয়াং ই মিউনিখে উল্লেখ করেন, কিছু দেশ তাইওয়ানকে চীন থেকে আলাদা করার চেষ্টা করছে এবং এই উত্তেজনা বাড়াতে জাপানকে দায়ী করেন। তিনি জাতিসংঘের শান্তি রক্ষার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই নীতিগুলো মেনে চলতে আহ্বান জানান।
লিন চিয়া-লুং রোববারের বিবৃতিতে বলেন, ঐতিহাসিক রেকর্ড, বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে তাইওয়ান কখনোই গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের অংশ ছিল না। তিনি যুক্তি দেন যে চীন সাম্প্রতিক সময়ে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে এবং জাতিসংঘের সনদের নীতিগুলো লঙ্ঘন করেছে।
লিন ওয়াং ই-র যুক্তি যে জাতিসংঘের সনদের উদ্দেশ্যকে তুলে ধরেছেন, তা তিনি “বাগাড়ম্বর” বলে খণ্ডন করেন। তিনি বলেন, চীন তার সামরিক হুমকি ও প্রকাশ্য হুমকির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা নষ্ট করছে, যা কোনোভাবে শান্তি রক্ষার দাবি সমর্থন করে না।
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে লিন চিয়া-লুংকে কোনোভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি; প্রকৃতপক্ষে তাইওয়ানের কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকেই এই ইভেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এই বাদ পড়া বিষয়টি তাইওয়ানের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলেছে।
চীনের দাবি অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান তাইওয়ানকে চীনের শাসনে “ফেরিয়ে” দিয়েছিল। তবে তাইওয়ান সরকার জোর দিয়ে বলে যে, জাপান যখন তাইওয়ান হস্তান্তর করেছিল, তখন তা চীনের প্রজাতন্ত্রের কাছে, গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের নয়। এই ঐতিহাসিক পার্থক্য দুই দেশের মধ্যে সার্বভৌমত্ব সংক্রান্ত বিতর্কের মূল ভিত্তি।
লিনের মন্তব্যের ফলে তাইওয়ান-চীন সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাইওয়ান আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য গৃহস্থ দেশগুলোর সমর্থন চাইতে পারে, আর চীন তার কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়িয়ে তুলতে পারে।
ভবিষ্যতে, তাইওয়ান তার সার্বভৌমত্বের দাবি জোরদার করে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে স্বীকৃতি অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাবে, একই সঙ্গে চীন তার ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য আরও সক্রিয় নীতি গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। উভয় পক্ষের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন চ্যালেঞ্জের সূচনা করতে পারে।



