১৯৯৯ সালে জেমি বেল ১৪ বছর বয়সে ‘বিলি এলিয়ট’ ছবিতে নৃত্যশিক্ষার্থী চরিত্রে প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় উপস্থিত হন। এরপরের দশকে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে দ্রুত স্বীকৃতি অর্জন করেন এবং ২০০৭ সালে বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ করেন।
বেল তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে পিটার জ্যাকসনের ‘কিং কং’ ও ক্লিন্ট ইস্টউডের ‘ফ্ল্যাগস অব আওয়ার ফাদার্স’ ছবিতে কাজ করে উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এই দুইটি বড় প্রোডাকশনে তিনি সহকারী অভিনেতা ও কাস্ট সদস্য হিসেবে কাজের পরিধি বিস্তৃত করেন।
‘কিং কং’ এবং ‘ফ্ল্যাগস অব আওয়ার ফাদার্স’ এর পর বেল ধীরে ধীরে তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক চরিত্রে রূপান্তরিত হন। তার অভিনয়শৈলী ও শারীরিক দক্ষতা এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম হয়, যা পরবর্তী প্রকল্পগুলোতে তাকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যায়।
ডেভিড ম্যাকেঞ্জির পরিচালিত ‘হ্যালাম ফো’ ছবিতে বেল প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। এই স্কটিশ ভিত্তিক নাটকটি রেয়ার উইন্ডো ও ভার্টিগোর ছায়া বহন করে, যেখানে এক তরুণ পুরুষ তার পিতা ও সৎমায়ের গোপনীয়তা অনুসরণ করে।
চলচ্চিত্রে বেল এমন এক যুবকের ভূমিকায় আছেন, যিনি তার পিতার গোপনীয়তা ও সৎমায়ের সঙ্গে সম্পর্কের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহী। একদিন তিনি তার মৃত মায়ের সদৃশ এক নারীকে আবিষ্কার করেন, যিনি এডিনব্রোর একটি হোটেলে কাজ করেন।
সফিয়া মাইলস ঐ হোটেল কর্মী চরিত্রে অভিনয় করেন, যাকে বেলের চরিত্রের সঙ্গে জটিল সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই মিথস্ক্রিয়া গল্পের মূল মোড় তৈরি করে এবং চরিত্রের মানসিক দ্বন্দ্বকে উন্মোচন করে।
সমালোচকরা বেলের চরিত্রকে ‘দৃষ্টিনন্দন’ এবং ‘রসালো’ বলে প্রশংসা করেন, যা তার অভিনয় দক্ষতার নতুন দিক উন্মোচন করে। এই ভূমিকা বেলকে তার ক্যারিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করে।
‘হ্যালাম ফো’ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে এবং সেরা সঙ্গীতের জন্য সিলভার বেয় পুরস্কার জিতে। সঙ্গীতের মান ও চলচ্চিত্রের সামগ্রিক গুণগত মানকে এই পুরস্কার স্বীকৃতি দেয়।
বেল চলচ্চিত্রের শিরোনাম চরিত্রকে ‘অদ্ভুত’ ও ‘বয়সের সীমানায় দাঁড়িয়ে থাকা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ছবিতে পারিবারিক মৃত্যু, ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া, যৌনতা ইত্যাদি সংবেদনশীল বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে, এবং এটি তার প্রথম শোয়ানো দৃশ্য।
শারীরিক চ্যালেঞ্জের দিক থেকে বেল স্বীকার করেন যে ছাদে চড়া ও তালা ভাঙা দৃশ্যগুলোতে তিনি নিজেই কাজ করেছেন। যদিও তিনি উচ্চতা নিয়ে ভয় পেতেন, তবু তিনি তা অতিক্রম করে দৃশ্যগুলো সম্পন্ন করেছেন।
২০২৪ সালে বেল ৩৯ বছর বয়সে আবার বার্লিনে উপস্থিত হতে যাচ্ছেন। তিনি কারিম আইনৌজের ‘রোজবুশ প্রুনিং’ ছবিতে অংশ নেবেন, যা প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে প্রদর্শিত হবে। এই প্রকল্পে কলাম টার্নার, রাইলি কেওসহ অন্যান্য শিল্পীও অংশগ্রহণ করছেন।
বেল-এর বার্লিনে ফিরে আসা তার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতে স্থায়ী উপস্থিতি ও নতুন সৃজনশীল চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়। এই সুযোগে তিনি পূর্বের অভিজ্ঞতা ও নতুন চরিত্রের সঙ্গে দর্শকদের সামনে নতুন দিক উপস্থাপন করবেন।



