শফিকুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামি’র আমির, আজ (১২ ফেব্রুয়ারি) এনডিটিভির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা পার্টির অগ্রাধিকার। তিনি জোর দিয়ে বলছেন, বাংলাদেশে প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা সমান এবং কোনো সংখ্যালঘু‑সংখ্যাগরিষ্ঠের পার্থক্য নেই।
শফিকুর রহমানের মতে, ভারত আমাদের সবচেয়ে নিকটবর্তী প্রতিবেশী এবং তার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা দেশের স্বার্থে অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই নীতি পার্টির সামগ্রিক কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির অংশ।
সংখ্যালঘু অধিকার সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি স্পষ্টভাবে বলছেন, জামায়াত-এ-ইসলামি কোনো ধর্ম‑ভিত্তিক গোষ্ঠীকে বিশেষ সমর্থন করে না। পার্টি সব নাগরিককে প্রথম শ্রেণির অধিকার প্রদান করে এবং কোনো সংখ্যালঘু‑সংখ্যাগরিষ্ঠের ধারণা স্বীকার করে না।
ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত হওয়ার পরই সফরের পরিকল্পনা করা হবে এবং এতে তার কোনো দ্বিধা নেই। নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
ইতিহাসে আজকের দিনটি ১২ ফেব্রুয়ারি, যখন দেশের ৪২,৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র থেকে সকাল ৭:৩০ টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোটাররা ভোর থেকেই কেন্দ্রে জমা হয় এবং বিকেল ৪:৩০ টা পর্যন্ত ভোটদান চালু থাকে।
এই নির্বাচনে মোট ২৯৯টি সংসদীয় আসন নির্ধারিত এবং ২,৪৭,৪৮২টি ভোটকক্ষ ব্যবহার করা হবে। ভোটগ্রহণের সময়সীমা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল গণনা শুরু হবে।
মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। এদের মধ্যে দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা ১,৭৫৫, আর স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা ২৭৩।
প্রার্থীর মোট সংখ্যা ২,২৮৮, যার মধ্যে নারী প্রার্থী ৮৩ জন। এদের মধ্যে ৬৩ জন দলীয় প্রার্থী এবং ২০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
ভোটার তালিকায় মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন নিবন্ধিত ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০, এবং হিজড়া ভোটার ১,২৩২ জন।
এই ভোটদান প্রক্রিয়া দেশের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চলমান, এবং শফিকুর রহমানের ভারত‑সুসম্পর্ক ও সমান নাগরিকত্বের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে।



