সিঙ্গাপুরে বসবাসরত দুইজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মুহাম্মদ আজিজ খান ও সাইফুল আলম মাসুদের ব্যাংক হিসাব ও অন্যান্য সম্পদ সম্প্রতি জব্দ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি বাংলাদেশ সরকারের ব্যবসায়িক লেনদেন সংক্রান্ত চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। জব্দের তথ্য সোমবার সিঙ্গাপুরের প্রধান সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
মুহাম্মদ আজিজ খান বিদ্যুৎ সরবরাহ, বন্দর অবকাঠামো, টেলিকম ও রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে কাজ করেন এবং তার পরিবারও একই ব্যবসায়িক ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত। সাইফুল আলম মাসুদ, যাকে এস আলম নামেও চেনা যায়, খাদ্য উৎপাদন, জ্বালানি, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। উভয়ের আর্থিক সম্পদ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের ফলে তাদের পারিবারিক আর্থিক কাঠামোতে সরাসরি প্রভাব পড়েছে।
দুজনই অভিযোগ অস্বীকার করে এবং জানিয়েছেন যে বাংলাদেশে তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি মামলা দায়ের হয়নি। তারা বাংলাদেশ সরকারের যে কোনো অনুসন্ধানকে স্বাগত জানিয়ে, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে তারা আইন মেনে চলা ব্যবসায়ী এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখে।
আজিজ খান উল্লেখ করেন যে বর্তমান পরিস্থিতি তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগের সময়সূচি বিলম্বিত করছে। বিশেষ করে অবকাঠামো ও রিয়েল এস্টেট খাতে চলমান প্রকল্পগুলোতে আর্থিক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে তদন্তের ফলাফল স্পষ্ট হলে ব্যবসা স্বাভাবিক পথে ফিরে আসবে।
সাইফুল আলমের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশে তদন্তের প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে; তার ও পরিবারের সম্পদ জব্দের ফলে খাদ্য ও জ্বালানি ব্যবসার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য দেননি, তবে তার ব্যবসা পরিচালনায় প্রভাবের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এই ঘটনা সংশ্লিষ্ট শিল্পে সরবরাহ শৃঙ্খলে অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
ডিসেম্বর ২০২৫-এ বাংলাদেশ সরকার গঠন করা অনৈতিক অর্থ লেনদেন প্রতিরোধ কমিটি দশটি বড় ব্যবসায়িক গ্রুপের কাছ থেকে প্রায় ৬৬ হাজার কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করেছিল। এই তালিকায় আজিজ খান ও এস আলমের অন্তর্ভুক্ত ব্যবসা গোষ্ঠীও উল্লেখিত ছিল। সেই সময়ের বাজেয়াপ্তের পরিমাণ ও প্রভাব আজকের জব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সামগ্রিক আর্থিক পরিবেশকে কঠোর করেছে।
সম্পদ জব্দের ফলে উভয় ব্যবসায়ীর বাজারে বিশ্বাসযোগ্যতা হ্রাস পেয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা বাড়াতে পারে। অবকাঠামো, জ্বালানি ও রিয়েল এস্টেট সেক্টরে নতুন প্রকল্পের তহবিল সংগ্রহে দেরি হতে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ধীর হতে পারে। বিশেষ করে বিদেশি মূলধন প্রবাহে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, কারণ আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকি মূল্যায়নে কঠোরতা অবলম্বন করতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে বাংলাদেশ সরকারের এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আর্থিক স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি মোকাবেলায় একটি রূপরেখা তৈরি করবে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবসায়িক পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উভয় ব্যবসায়ী আইন মেনে চলার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করে, তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে তাদের কার্যক্রম পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন।



