মহানগরী আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ে দক্ষিণ আফ্রিকা এ (দক্ষিণ আফ্রিকা) দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয়লাভ করে। প্রথমে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সাত উইকেটের পার্থক্যে জয় অর্জন করে, এরপর আফগানিস্তানের সঙ্গে টানা দুইটি সুপার ওভারের পর বিজয় নিশ্চিত করে।
দক্ষিণ আফ্রিকা এ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭৫ রান/৭ স্কোরে সীমাবদ্ধ রাখতে মারকো জ্যানসেনের ৪ উইকেটের চমৎকার পারফরম্যান্স সহায়তা করে। জ্যানসেনের ৪/৪০ গড়ে দলটি প্রতিপক্ষকে টুর্নামেন্টের তিনটি ম্যাচের মধ্যে সর্বনিম্ন প্রথম ইনিংস স্কোরে আটকে রাখে। শীর্ষ ব্যাটসম্যান আইডেন মার্ক্রাম ৪৪ বলের মধ্যে ৮৬ রান না-আউট করে দলের আক্রমণকে শক্তিশালী করে, যা তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ স্কোর। দক্ষিণ আফ্রিকা এ পুরো ম্যাচ জুড়ে ১৭টি বল বাকি রেখে জয় নিশ্চিত করে।
মার্ক্রাম ম্যাচের পর বলেন, “এ ধরনের ম্যাচ জিতলে দলের চেঞ্জরুমের মনোভাব ও পরিবেশে বড় পরিবর্তন আসে। তবে টেকনিক্যাল পারফরম্যান্সে বেশি স্বস্তি থাকে; এমন অনুভূতি ভবিষ্যতে বজায় রাখতে চাই। মানসিকভাবে এটি সহজে সামলানো যায়।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “দলকে নিজের উদাহরণ দিয়ে নেতৃত্ব দিতে হয়, অন্যথায় কথা বলা অর্থহীন।”
মার্কো জ্যানসেনও একইমত প্রকাশ করেন, “আজকের ম্যাচ মানসিক দিক থেকে বেশি স্বস্তিদায়ক ছিল। আগের দিন আবেগের উচ্চতা বেশি ছিল, তবে যখন দরকার তখন বিভিন্ন খেলোয়াড়ের সমন্বয় দেখা ভাল লাগল।” তিনি দলের সমন্বয়কে প্রশংসা করে বলেন, “বোলার ও ব্যাটার উভয়ই একসাথে কাজ করে ফলাফল এনে দেয়।”
অফগানিস্তানের সঙ্গে ম্যাচে প্রথমে স্কোর সমান হয়ে দুইটি সুপার ওভারে গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা এ শেষ পর্যন্ত জয়লাভ করে। এই জয়টি দলের জন্য মানসিক দৃঢ়তা ও সমন্বয়ের প্রমাণ হিসেবে কাজ করেছে। জ্যানসেন উল্লেখ করেন, “পূর্বে দুই-তিনজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীলতা থাকত, তবে আজ সব বোলার ও ব্যাটারই সমানভাবে অবদান রেখেছে।”
দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলের এই ধারাবাহিকতা টি২০ ক্রিকেটের আধুনিক প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তারা টেকনিক্যাল দক্ষতা ও মানসিক স্থিতিশীলতা দুটোই বজায় রেখে টুর্নামেন্টে অগ্রসর হচ্ছে। মার্ক্রামের নেতৃত্বে দলটি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে দক্ষিণ আফ্রিকা এ আরও কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, তাই কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়রা এখন পর্যন্ত অর্জিত সাফল্যকে ভিত্তি করে কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করছে। দলটি আশা করে, আজকের মতো টেকনিক্যাল পারফরম্যান্স এবং মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে টুর্নামেন্টের শীর্ষে পৌঁছাবে।



