নতুন সরকার গৃহীত হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারা অবিলম্বে উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের দাবি তুলে ধরেছেন। বহু বছর ধরে বঞ্চিত অঞ্চলটি শিল্পের অভাব, অবকাঠামোর দুর্বলতা এবং দারিদ্র্যের শিকলে আটকে আছে; তাই তারা অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য বিস্তৃত প্রকল্পের তালিকা উপস্থাপন করেছে।
বরিশাল, ভাঙ্গা, পটুয়াখালী ও কুয়াকাটা জুড়ে ছয় লেনের মহাসড়ক নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করার দাবি করা হয়েছে। এই রোড নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের মূল বাণিজ্যিক রুটের সঙ্গে সংযোগ শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্যাস পাইপলাইনকে ভোলা-বরিশাল-ঢাকা ও খুলনা বিভাগে সম্প্রসারণের প্রস্তাবও উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি দূর হয়।
শিল্প ক্ষেত্রের উন্নয়নের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপন এবং বরিশালে ১.২ মিলিয়ন টন খাদ্য উদ্বৃত্ত সংরক্ষণের জন্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগগুলো স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদন বাড়িয়ে আয় বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
পরিবহন ক্ষেত্রে, বরিশাল-ঢাকা এবং যশোর-বরিশাল-চট্টগ্রাম রুটে নিয়মিত বিমান সেবা চালু করার প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূলীয় নৌপথে স্টিমার সেবার পুনরায় চালু করা হলে সমুদ্রপথে পণ্য ও যাত্রী চলাচল সহজ হবে।
পর্যটন উন্নয়নের জন্য কুয়াকাটাকে “একান্ত পর্যটন এলাকা” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে অবকাঠামো ও সেবা উন্নত করার দাবি করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের হোটেল, রিসোর্ট এবং পরিবেশ সংরক্ষণ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে, বরিশালে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আধুনিকায়নের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি, বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ২৫০ পর্যন্ত বাড়িয়ে রোগীর সেবা মানোন্নয়ন করা হবে।
বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট নরুল ইসলাম খান রাজন ২৭টি দাবির মাধ্যমে অবকাঠামো ছাড়াও পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে পরিবেশগত ক্ষতি বাড়বে।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ারও নির্বাচনী প্রচারণায় দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে দলের ভূমিকা তুলে ধরেছেন। তিনি ভোলা-বরিশাল সংযোগ রোড, বারিশাল ডুয়েল গেজ রেললাইন, আধুনিক বিশেষায়িত হাসপাতাল ও ইপিজেড স্থাপন, এবং বারিশাল বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা উল্লেখ করেছেন।
পর্যটন দৃষ্টিকোণ থেকে কুয়াকাটাকে বিশ্বমানের গন্তব্যে রূপান্তর, শহরের খাল পরিষ্কার, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প এবং শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আধুনিকায়নও সরোয়ার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। তিনি অতিরিক্তভাবে বারিশাল নগরীর খাল পুনরুদ্ধার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে শহরের পরিবেশগত মানোন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
এই সব দাবি ও পরিকল্পনা নতুন সরকারের কাছে উপস্থাপনের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলকে দেশের অর্থনৈতিক মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। অঞ্চলটির জনগণ আশা করে, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অবকাঠামো, শিল্প, স্বাস্থ্য ও পর্যটন ক্ষেত্রে ধারাবাহিক উন্নয়ন বাস্তবায়ন করবে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, সরকারী সংস্থাগুলি এখনও কিছু প্রকল্পের বাজেট ও বাস্তবায়ন সময়সূচি চূড়ান্ত করেনি বলে জানিয়েছে। তবে তারা উল্লেখ করেছে যে, পরিকল্পনা পর্যায়ে থাকা প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা শেষে দ্রুত অনুমোদন করা হবে।
অবশেষে, দক্ষিণাঞ্চলের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং সামাজিক সেবা উন্নত হবে বলে বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন। এই প্রত্যাশা নতুন সরকারের নীতি দিকনির্দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে, অঞ্চলটির দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি নিশ্চিত হবে।



