পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, ৭৩ বছর বয়সে, রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে একা কারাবাসে আছেন এবং ডান চোখের সংক্রমণের ফলে দৃষ্টিশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ হারিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের নিযুক্ত অ্যামিকাস কিউরি সালমান সাফদার কর্তৃক প্রস্তুত রিপোর্টে জেল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা রোগের দ্রুত অবনতি ঘটিয়েছে।
এই স্বাস্থ্য সংকটের প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের ক্রিকেটের বহু প্রাক্তন তারকা, যার মধ্যে রয়েছে ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিস, শাহিদ আফ্রিদি, রামিজ রাজা এবং মোহাম্মদ হাফিজ, একত্রে ইমরানের জন্য ত্বরিত ও উপযুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তারা জেল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছেন যেন ইমরানকে সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।
ওয়াসিম আকরাম সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করে বলেছেন, “ইমরানের স্বাস্থ্য সমস্যার খবর শুনে গভীর দুঃখ অনুভব করছি। তিনি আমাদের জাতীয় নায়ক, যিনি ক্রীড়াক্ষেত্রে গৌরব এনে দিয়েছেন এবং এখন ক্যান্সার হাসপাতাল পরিচালনা করে অসংখ্য মানুষের সেবা করছেন। তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি যেন তিনি সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পান।” অন্যদিকে শাহিদ আফ্রিদি ইমরানের চিকিৎসা অধিকারকে মৌলিক মানবিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে, রামিজ রাজা, যিনি ইমরান প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন, মানবিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে ইমরানের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন।
মোহাম্মদ হাফিজও ইমরানের দ্রুত সুস্থতা ও তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে, এই বিষয়টি কেবল পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সীমাবদ্ধ নয়, তা আন্তর্জাতিক স্তরে মনোযোগ পেয়েছে। ভারতের প্রাক্তন ব্যাটসম্যান আজায় জাদেজা, যিনি ইমরানের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী, শুক্রবার পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের ইমরানের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে, ক্রীড়া জগতের ঐক্যের বার্তা পুনরায় জোর দিয়েছেন।
ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৩ সালের আগস্টে তিনি রাষ্ট্র গোপন তথ্য ফাঁস, রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রির অভিযোগসহ একশেরও বেশি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে গ্রেফতার হন। তার গ্রেফতারের পর থেকে তিনি আদিয়ালা জেলে একা কারাবাসে রয়েছেন, যেখানে স্বাস্থ্য সেবা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগগুলো ধারাবাহিকভাবে উঠে আসছে।
অধিকাংশ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইমরানের চোখের সংক্রমণ জেল কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবার অভাবে তীব্রতর হয়েছে, যা তার দৃষ্টিশক্তি দ্রুত হ্রাসের কারণ হয়েছে। অ্যামিকাস কিউরি সালমান সাফদার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জেল কর্তৃপক্ষের অবহেলা রোগীর স্বাস্থ্যের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলেছে এবং তা অবিলম্বে সংশোধন করা প্রয়োজন।
সাবেক ক্রিকেটারদের এই সমবেত আহ্বান পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও ক্রীড়া পরিবেশে একটি নতুন দৃষ্টিকোণ তৈরি করেছে। ইমরানের স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান না হলে, তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং দেশের আন্তর্জাতিক চিত্র উভয়ই প্রভাবিত হতে পারে। বিশেষ করে, তার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান না হলে, তার সমর্থক ও বিরোধী উভয়েরই রাজনৈতিক কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।
পরবর্তী পর্যায়ে, জেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইমরানের জন্য বিশেষ চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা জেল ব্যবস্থাপনা ও রোগীর স্বাস্থ্য সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। একই সঙ্গে, পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলোও ইমরানের স্বাস্থ্য সমস্যাকে রাজনৈতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
ইমরান খানের স্বাস্থ্য অবস্থা ও তার দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের বিষয়টি এখন দেশের রাজনৈতিক ও ক্রীড়া ক্ষেত্রের এক সংবেদনশীল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সমাধান না হলে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। সাবেক ক্রিকেটারদের সমবেত আহ্বান ও আন্তর্জাতিক সমর্থন ইমরানের দ্রুত সুস্থতা ও ন্যায্য চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চাপ সৃষ্টি করেছে।



