মিউনিখ নিরাপত্তা শীর্ষ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিওকে কেন্দ্রবিন্দু করা হয়েছিল, যখন ইউরোপীয় নেতারা তার শনিবারের বক্তব্যে কী সুরে কথা বলবেন তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছিলেন। রুবিওর ভাষণ ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে মার্কিন-ইউরোপীয় সম্পর্কের কিছু ফাঁক পূরণে আশ্বাসের স্বর প্রদান করলেও সম্পূর্ণ সন্তোষজনক হয়নি।
রুবিও উল্লেখ করেন যে, যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিমালা কিছু ক্ষেত্রে সম্পর্ককে তিক্ত করেছে, তবে মার্কিন সরকার ইউরোপের সঙ্গে পার্টনারশিপ বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তার এই মন্তব্য ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে স্বস্তি এনে দেয়, যদিও কিছু বিশ্লেষকরা এখনও সতর্কতা বজায় রাখেন।
রুবিওর সঙ্গে অন্যান্য আমেরিকান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও সম্মেলনে অংশ নেন। ক্যালিফোর্নিয়া গভর্নর গ্যাভিন নিউসম, যিনি ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে সম্ভাব্যতা রাখেন, একটি সেশনে উল্লেখ করেন যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসন সাময়িক এবং তিন বছরের মধ্যে শেষ হবে। তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবকে সীমিত করার ইঙ্গিত দেন।
নিউসমের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ডেমোক্র্যাটিক সেনেটর জিন শাহিন, যিনি ইউরোপীয় মিত্রদের গুরুত্বকে পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে এই শীর্ষ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্যই তাদের প্রতি আমাদের সমর্থন ও বোঝাপড়া প্রকাশ করা। শাহিনের বক্তব্যে ইউরোপের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
রিপাবলিকান সেনেটর থম টিলিসও একই সেশনে অংশ নেন এবং যুক্তি দেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে কোনো “সিভিল ওয়ার” নেই। তিনি আমেরিকান মিত্রদেরকে আমেরিকান রাজনৈতিক রেটোরিকের ফাঁদে না পড়তে সতর্ক করেন, যাতে পারস্পরিক বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত অন্যান্য আমেরিকান আইনপ্রণেতা ও গভর্নরদেরও ইউরোপীয় অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়। বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাটিক নেতা, যার মধ্যে নিউসমও অন্তর্ভুক্ত, ভবিষ্যতে মার্কিন-ইউরোপীয় সহযোগিতার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
মার্কিন সরকার ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে কিছু বাণিজ্যিক নীতি পরিবর্তন করেছে, যার মধ্যে উচ্চ শুল্ক আরোপ এবং আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা পুনর্গঠনের ইচ্ছা অন্তর্ভুক্ত। এই নীতিগুলি ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে চাপের মধ্যে ফেলেছে, তবে রুবিও ও অন্যান্য কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন যে এই বিষয়গুলো সমাধানযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী মিত্রতা বজায় থাকবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে মার্কিন সরকার পশ্চিম গোলার্ধে নীতি পুনর্গঠনের দিকে ঝুঁকেছে, যা ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে শীর্ষ সম্মেলনে প্রকাশিত বক্তব্যগুলো এই উদ্বেগকে কমিয়ে, পারস্পরিক সহযোগিতার পথে অগ্রসর হওয়ার সংকেত দেয়।
ইউরোপীয় নেতারা রুবিওর বক্তব্যে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন, যদিও তারা এখনও ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিমালার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সতর্ক। শীর্ষ সম্মেলনের পরবর্তী সেশনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা মার্কিন সরকারের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক নির্দিষ্ট আলোচনার জন্য সময়সূচি নির্ধারণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
মিউনিখে অনুষ্ঠিত এই শীর্ষ সম্মেলনটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো ভবিষ্যতে কীভাবে একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করবে, তা পরবর্তী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে পরিষ্কার হবে।
সংক্ষেপে, মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব রুবিও এবং অন্যান্য আমেরিকান নেতাদের বক্তব্য ইউরোপীয় মিত্রদেরকে আশ্বস্ত করার দিকে মনোযোগী ছিল, যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও রেটোরিকের প্রভাব সম্পূর্ণভাবে অদৃশ্য হয়নি। শীর্ষ সম্মেলনের মূল বার্তা ছিল পারস্পরিক বিশ্বাস বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার ভিত্তি শক্তিশালী করা।
শীর্ষ সম্মেলনের পরবর্তী ধাপে মার্কিন সরকার ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্যিক শুল্ক, নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে বিস্তারিত আলোচনা চালিয়ে যাবে। এই আলোচনাগুলোই শেষ পর্যন্ত ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের স্থায়িত্ব নির্ধারণ করবে।



