বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ‘পার্সপেকটিভস’ শাখায় ১ ঘণ্টা ৩৩ মিনিটের ‘Animol’ চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছে। অভিনেতা-পরিচালক অ্যাশলি ওয়াল্টার্সের প্রথম দিকের পরিচালনায় স্টিফেন গ্রাহাম, টুট নিউয়ট, ভ্লাদিস্লাভ বালিয়ুক, সেকু ডিয়াবি, রায়ান ডিন এবং শারন ডাঙ্কন-ব্রুয়েস্টারসহ নতুন মুখের কাস্ট অভিনয় করেছে। স্ক্রিনরাইট নিক লাভের লেখা গল্পটি উত্তর ইংল্যান্ডের একটি যুব কারাগারে গড়ে ওঠা তীব্র মানবিক নাটককে কেন্দ্র করে।
প্রদর্শনীতে দেখা যায়, চলচ্চিত্রের সূচনা কালো পর্দা ও হঠাৎ শোনা এক ঝগড়া দিয়ে, যা একটি ব্যর্থ ডাকাতির ইঙ্গিত দেয় এবং পরবর্তীতে আরও গুরুতর অপরাধের দিকে নিয়ে যায়। এই ঘটনার পর, ট্রয় (টুট নিউয়ট অভিনীত) নামের এক তরুণকে উত্তর ইংল্যান্ডের যুব অপরাধী কেন্দ্রের দরজায় দাঁড়িয়ে দেখা যায়। তার মুখে ভয় ও নির্লিপ্ততার মিশ্রণ স্পষ্ট, যা দর্শকের মধ্যে তৎক্ষণাৎ উদ্বেগের সঞ্চার করে।
‘Animol’ মূলত যুব কারাগারের ভেতরে গড়ে ওঠা ক্ষমতার লড়াই, বন্ধুত্ব ও আত্ম-অন্বেষণকে তুলে ধরে। চলচ্চিত্রটি ধারাবাহিকভাবে হিংস্র দৃশ্য, তীব্র সংলাপ এবং অপ্রত্যাশিত মানবিক মুহূর্তের মিশ্রণ ঘটায়। স্টিফেন গ্রাহাম, যিনি পূর্বে ‘স্টারড আপ’ চলচ্চিত্রে শক্তিশালী চরিত্রের জন্য পরিচিত, এখানে এক কঠোর কিন্তু সংবেদনশীল চরিত্রে উপস্থিত। তার পারফরম্যান্সে কঠোরতা ও কোমলতার সমন্বয় দেখা যায়, যা পুরো ছবির টোনকে সমর্থন করে।
অ্যাশলি ওয়াল্টার্সের পরিচালনায় গল্পের গতি দ্রুত, তবে একই সঙ্গে চরিত্রগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। নিক লাভের স্ক্রিপ্টে সংলাপের পরিমাণ কম, তবে প্রতিটি কথায় গভীর অর্থ লুকিয়ে আছে। প্রথম দৃশ্যে দেখা যায়, একটি অপ্রত্যাশিত চোরাচালান কিভাবে একদল তরুণকে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়, এবং তা থেকে উদ্ভূত অপরাধের চক্রকে কীভাবে ভাঙা যায়—এটি চলচ্চিত্রের মূল প্রশ্ন।
‘Animol’ এবং ‘স্টারড আপ’ উভয়ই যুব কারাগারের পরিবেশে মানবিক দিকটি অনুসন্ধান করে, তবে এই নতুন চলচ্চিত্রটি নিজস্ব রঙে রচিত। উভয় ছবিই সমলিঙ্গিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম ইঙ্গিত দেয়, তবে ‘Animol’ তা আরও সূক্ষ্মভাবে, ধূসর ছায়ায় উপস্থাপন করেছে, যা দর্শকের কাছে নতুন দৃষ্টিকোণ এনে দেয়।
কাস্টের বেশিরভাগই নতুন মুখ, যা ছবির বাস্তবতা বাড়িয়ে তুলেছে। টুট নিউয়টের ট্রয় চরিত্রে শারীরিক গঠন ও মানসিক ভঙ্গি উভয়ই শক্তিশালী, যা তাকে দৃশ্যের কেন্দ্রে রাখে। ভ্লাদিস্লাভ বালিয়ুক, সেকু ডিয়াবি এবং রায়ান ডিনের পারফরম্যান্সও যথেষ্ট প্রভাবশালী, যদিও তারা এখনও পরিচিত নয়। শারন ডাঙ্কন-ব্রুয়েস্টার এবং স্টিফেন গ্রাহাম ছবিতে অভিজ্ঞতার ছাপ যোগ করে, যা তরুণ অভিনেতাদের সঙ্গে মিলে সামগ্রিক গুণগত মানকে উঁচু করে।
চলচ্চিত্রের দৃশ্যাবলী তীব্র হিংস্রতা এবং নরম মুহূর্তের মধ্যে সুষমভাবে পরিবর্তিত হয়। একদিকে, কারাগারের গোপনীয়তা ও হিংস্রতা দর্শকের হৃদয়কে দ্রুত ধুকপুক করে, অন্যদিকে, চরিত্রগুলোর দুর্বলতা ও আশার আলো দৃশ্যকে মানবিক করে তোলে। এই দ্বৈততা ছবিটিকে শুধু ভয়ংকর নয়, বরং স্পর্শকাতর করে তুলেছে।
‘Animol’ এর থিমে আশা, দয়া এবং আত্ম-অন্বেষণকে মূল স্তম্ভ হিসেবে রাখা হয়েছে। চলচ্চিত্রের শেষের দিকে দেখা যায়, তরুণদের মধ্যে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সমর্থন কীভাবে কঠোর পরিবেশকে পরিবর্তন করতে পারে। এই দিকটি দর্শকের মধ্যে ইতিবাচক অনুভূতি জাগিয়ে তুলতে সক্ষম।
বার্লিন ফেস্টিভ্যালে ‘Animol’ এর প্রথম প্রদর্শনীকে সমালোচকরা প্রশংসা করেছেন, যদিও ‘স্টারড আপ’ এর তুলনায় শেকসপিয়ারীয় মহাকাব্যিকতা কম, তবু তীব্রতা, উত্তেজনা এবং কোমলতার সমন্বয়কে যথাযথভাবে উপস্থাপন করেছে। চলচ্চিত্রটি তরুণ দর্শক এবং প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের জন্যই আকর্ষণীয়, কারণ এটি কেবল হিংস্রতা নয়, মানবিক সম্পর্কের জটিলতা ও পুনর্গঠনের সম্ভাবনাকে তুলে ধরে।
সারসংক্ষেপে, ‘Animol’ একটি শক্তিশালী প্রথম পরিচালনা, যা যুব কারাগারের কঠোর বাস্তবতা এবং মানবিক দিক উভয়ই চিত্রিত করে। অ্যাশলি ওয়াল্টার্সের দৃষ্টিভঙ্গি, নিক লাভের সংক্ষিপ্ত স্ক্রিপ্ট এবং স্টিফেন গ্রাহামের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে ছবিটিকে তীব্রতা ও সংবেদনশীলতার মিশ্রণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে এই চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও স্বীকৃতি পেতে পারে, এবং তরুণ অভিনেতাদের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।



