অস্ট্রিয়ান পরিচালক মার্কাস শ্লেইনজারের নতুন কালো-সাদা ঐতিহাসিক নাটক ‘রোজ’ এ জার্মান অভিনেত্রী স্যান্ড্রা হুল্লার ১৭শ শতাব্দীর এক নারীকে পুরুষের ছদ্মবেশে যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে উপস্থাপন করছেন। ছবিটি বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে প্রদর্শিত হবে।
হুল্লার সম্প্রতি ‘অ্যানাটমি অফ এ ফল’ ছবিতে অস্কার নোমিনেশন অর্জন করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তার ক্যারিয়ার জুড়ে ‘দ্য জোন অফ ইন্টারেস্ট’, ‘টনি এর্দমান’ এবং ‘রেকুইয়েম’ মত ইউরোপীয় আর্টহাউস চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
‘রোজ’ এর কাহিনী ত্রিশ বছরের যুদ্ধের (১৬১৮‑১৬৪৮) ধ্বংসের পর জার্মানির এক গ্রামকে পটভূমি করে। ঐ সময়ে কিছু অঞ্চলে জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি লোক প্রাণ হারিয়েছিল। এই বিশাল মানবিক ক্ষতির মাঝেই হুল্লার চরিত্র, একটি দাগযুক্ত ও নীরব সৈনিক, নিজেকে পুরুষের ছদ্মবেশে উপস্থাপন করে।
চিত্রের প্রধান নায়িকা দীর্ঘদিন ধরে পুরুষের রূপে জীবিত, এবং একটি পরিত্যক্ত ফার্মের মালিকের মৃত পুত্রের পরিচয় নিয়ে গ্রামে প্রবেশ করে। তার কঠোর পরিশ্রম ও ধর্মীয় ভয়ভীতি গ্রামবাসীদের ধীরে ধীরে বিশ্বাস জয় করে, যদিও তারা প্রথমে সন্দেহপ্রবণ ছিল।
তবে তার মিথ্যা প্রকাশের ঝুঁকি সবসময় তার সঙ্গে থাকে। যদি তার সত্যিকারের লিঙ্গ প্রকাশ পায়, তবে গ্রামবাসীর কঠোর ধর্মীয় নীতি ও সামাজিক দমনমূলক মনোভাবের কারণে তার জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে। এই উত্তেজনা ছবির মূল নাটকীয়তা গঠন করে।
‘রোজ’ বাস্তব ঐতিহাসিক ঘটনার উপর ভিত্তি করে তৈরি, যেখানে যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে নারীরা পুরুষের পোশাক পরিধান করে জীবনের রক্ষা পেয়েছেন। শ্লেইনজার এই থিমটি প্রথমবারের মতো কালো-সাদা শৈলীতে উপস্থাপন করছেন, যা ছবির মেজাজকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
মার্কাস শ্লেইনজার পূর্বে ‘মাইকেল’ (২০১১) এবং ‘এ’ (বছর উল্লেখ নেই) চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। ‘রোজ’ তার তৃতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এবং বার্লিনের প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে প্রবেশের মাধ্যমে তার সৃজনশীল ধারাকে পুনরায় প্রমাণ করছে।
হুল্লার এই প্রকল্পের পাশাপাশি হলিউডেও ব্যস্ত সময়সূচি রয়েছে। তিনি অ্যালেহান্দ্রো গ. ইনারিতুর প্রত্যাশিত ড্রামেডি ‘ডিগার’ এ টম ক্রুজের সঙ্গে কাজ করবেন এবং ফিল লর্ড ও ক্রিস্টোফার মিলারের সায়েন্স ফিকশন ‘প্রজেক্ট হেল মেরি’ এ রায়ান গস্লিংয়ের সঙ্গে পার্টনারশিপ করবেন।
এই দু’টি আন্তর্জাতিক প্রকল্প হুল্লারকে ইউরোপীয় আর্টহাউস থেকে গ্লোবাল বক্স অফিসের দিকে ধাবিত করতে সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তবুও তিনি ‘রোজ’ এর মাধ্যমে আর্টহাউসের মূলধারার দিকে ফিরে এসে তার অভিনয় দক্ষতা পরীক্ষা করছেন।
‘রোজ’ এর চিত্রনাট্য ও দৃশ্যাবলী যুদ্ধের পরবর্তী গ্রাম্য জীবনের কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরে। গ্রামবাসীর ধর্মীয় রীতিনীতি, জমি দখল ও সামাজিক শৃঙ্খলা ছবির পটভূমি গঠন করে, যা দর্শকদের ঐতিহাসিক সময়ের গভীরতা অনুভব করায়।
হুল্লার এই চরিত্রে আত্মত্যাগ, সাহস ও পরিচয়ের দ্বন্দ্বকে একসাথে মিশ্রিত করেছেন। তিনি নিজের অভিনয়কে চ্যালেঞ্জিং বলে উল্লেখ করেছেন, যদিও সরাসরি উদ্ধৃতি ব্যবহার করা হয়নি। তার পারফরম্যান্সকে চলচ্চিত্রের মূল আকর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
‘রোজ’ এর প্রিমিয়ার বার্লিনে অনুষ্ঠিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচক ও দর্শক উভয়ই এই কাজের নান্দনিকতা ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের প্রশংসা করছেন। শ্লেইনজার ও হুল্লার উভয়েরই ভবিষ্যৎ প্রকল্পে এই ধরনের সাহসী পরীক্ষামূলক কাজের প্রত্যাশা বাড়ছে।
সারসংক্ষেপে, স্যান্ড্রা হুল্লার ‘রোজ’ এ পুরুষের ছদ্মবেশে থাকা এক নারীর জটিল মানসিকতা ও সামাজিক চ্যালেঞ্জকে চিত্রিত করে আর্টহাউসের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছেন। একই সঙ্গে তার হলিউডের আসন্ন প্রকল্পগুলো তাকে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি বাড়াতে সহায়তা করবে।



