মুম্বাইতে ল্যাক্সমান উটেকরের পরিচালিত ‘ছাভা’ চলচ্চিত্রটি ভিকি কৌশল, রাশমিকা মান্দান্না ও অক্ষয় খন্নার অভিনয়ে দর্শকদের উচ্ছ্বাসের মুখে রাতের দেরি পর্যন্ত শো চালু করেছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবারের প্রিমিয়ার থেকে সিনেমাটি পূর্ণ হলে ভরা হলে গৃহীত হচ্ছে এবং বিভিন্ন থিয়েটারে শো সময় ১২:৪৫ এএম, ১:০০ এএম, ১:১৫ এএম এবং ১:৩০ এএম পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই রকম দেরি পর্যন্ত শো চালু করা এখনো মুম্বাইয়ের সিনেমা জগতে বিরল ঘটনা।
‘ছাভা’ ম্যাডক ফিল্মসের প্রযোজনা এবং দীনেশ বিজানের তত্ত্বাবধানে তৈরি, যা মারাঠা রাজ্যের চতুর্থ শাসক ছত্রপতি সাম্ভাজি মহারাজের জীবনীকে ভিত্তি করে। চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু ও প্রধান চরিত্রের প্রতি মারাঠা জনগণের গভীর স্নেহ, পাশাপাশি ভিকি কৌশলের উত্থানশীল জনপ্রিয়তা, দুটোই শোয়ের দেরি পর্যন্ত বাড়ানোর মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
মুম্বাইতে পূর্বে মধ্যরাতের পর শো পেয়েছে এমন কিছু চলচ্চিত্রের মধ্যে ‘ড্রিশ্যাম ২’, ‘জাওয়ান’, ‘পাথান’, ‘অ্যানিমাল’, ‘স্ট্রি ২’, ‘শৈতান’, ‘সৌর্যবংশি’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তবে ‘গ্যাংগুবাই কাথিয়াভাড়ি’ ছাড়া অন্য কোনো নারী-নায়িকাভিত্তিক চলচ্চিত্র এই ধরনের শো পায়নি। হলিউডে ‘ওপেনহাইমার’, ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অফ ওয়াটার’ ইত্যাদি চলচ্চিত্রই রাতের দেরি পর্যন্ত শো পেয়েছে।
হিন্দি চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে, মধ্যরাতের পর শো পেতে সাধারণত সুপারস্টারদের নেতৃত্বে থাকা সিনেমাগুলোই সুযোগ পায়। ‘ছাভা’ হল প্রথম এমন ছবি যেখানে ভিকি কৌশল, যাকে এখনো উদীয়মান সুপারস্টার বলা হয়, এই সম্মান অর্জন করেছে। তার জনপ্রিয়তা এবং ছত্রপতি সাম্ভাজি মহারাজের প্রতি জনগণের সম্মান দুটোই এই বিশাল চাহিদার পেছনে রয়েছে।
বক্স অফিসের দিক থেকে ‘ছাভা’ প্রথম সপ্তাহে ৩৩.১০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে এবং প্রথম সপ্তাহান্তে ১০০ কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। এই রকম আর্থিক সাফল্যই সিনেমাটিকে রাতের দেরি পর্যন্ত শো চালু করার আরেকটি প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
শো সময় বাড়ানোর ফলে সিনেমা হলগুলোতে দর্শকের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে পূর্ণ থাকে, যা টিকিট বিক্রির হারকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যায়। মুম্বাইয়ের বিভিন্ন থিয়েটার চেইন এই শোগুলোকে বিশেষভাবে পরিকল্পনা করে, যাতে দর্শকরা রাতের দেরি পর্যন্ত সিনেমা উপভোগ করতে পারে।
‘ছাভা’র এই অনন্য শো সময়ের ফলে মুম্বাইয়ের সিনেমা বাজারে নতুন একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যেখানে জনপ্রিয়তা ও বিষয়বস্তুর গুরুত্ব শো সময়ের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভবিষ্যতে আরও চলচ্চিত্র এই মডেল অনুসরণ করতে পারে, বিশেষ করে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে সমৃদ্ধ বিষয়বস্তু সম্বলিত ছবিগুলোর জন্য।
সিনেমা প্রেমিকদের জন্য এই দেরি পর্যন্ত শো একটি বিশেষ সুযোগ, কারণ তারা রাতের নিঃশব্দে সিনেমার পরিবেশ উপভোগ করতে পারে। একই সঙ্গে, থিয়েটার মালিকদের জন্য এটি অতিরিক্ত আয়ের উৎস, যা সিনেমা শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়তা করবে।
মুম্বাইয়ের এই নতুন প্রবণতা দেশের অন্যান্য বড় শহরে ছড়িয়ে পড়লে, রাতের দেরি পর্যন্ত শোকে একটি স্থায়ী রীতি হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এটি বাস্তবায়নের জন্য থিয়েটারগুলোর নিরাপত্তা, কর্মী ব্যবস্থাপনা এবং দর্শকের সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।
‘ছাভা’র সাফল্য ও দেরি পর্যন্ত শো চালু হওয়া মুম্বাইয়ের সিনেমা সংস্কৃতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে, যেখানে দর্শকের চাহিদা ও চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু দুটোই সমানভাবে গুরুত্ব পায়। এই ধারা অব্যাহত থাকলে, ভবিষ্যতে আরও বেশি চলচ্চিত্র রাতের দেরি পর্যন্ত শো পেতে পারে এবং সিনেমা হলগুলো নতুন দর্শক গোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত হবে।



