ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ তারিখে NASA ও SpaceX-এর ২০তম মানবমিশন Crew-12, পূর্বের রাত ৫:১৫ টায় ফ্লোরিডার ক্যাপ ক্যানাভেরাল থেকে উৎক্ষেপণ হয়েছে। মিশনের ড্রাগন ক্যাপসুল প্রায় ৩৪ ঘণ্টা উড়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) এর সঙ্গে যুক্ত হবে।
উৎক্ষেপণের সময়সূচি অনুসারে, ক্যাপসুলটি ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩:১৫ টায় স্টেশনের ডকিং পোর্টে পৌঁছাবে। এই সময়ে NASA-র লাইভ সম্প্রচারও শুরু হবে, যা মহাকাশে আগ্রহী দর্শকদের জন্য সরাসরি দেখার সুযোগ দেবে।
ড্রাগন ক্যাপসুলে চারজন মহাকাশচারী রয়েছেন: NASA-র জেসিকা মেয়ার ও জ্যাক হ্যাথওয়ে, ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির সোফি অ্যাডেনোট এবং রাশিয়ান রোসকোসমসের আন্দ্রে ফেড্যাভ। এরা সকলেই আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে একসাথে কাজ করবেন।
এই চারজনের সঙ্গে ISS-এ ইতিমধ্যে তিনজন ক্রু সদস্য রয়েছেন, যারা Crew-11 মিশনের পরে স্টেশনে অবস্থান করছেন। Crew-11 মিশনটি পরিকল্পনার চেয়ে এক মাস আগে পৃথিবীতে ফিরে এসেছে।
Crew-11-এর আগাম প্রত্যাবর্তনের পেছনে একটি চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্যা ছিল, যা স্টেশনের সরঞ্জাম দিয়ে সঠিকভাবে নির্ণয় করা সম্ভব ছিল না। যদিও রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল ছিল, NASA সতর্কতার দিক থেকে পুরো মিশনকে নিরাপদে শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
Crew-12 মিশনের সময়কাল প্রায় আট মাস নির্ধারিত, যার মধ্যে তারা বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অংশ নেবে। এই গবেষণাগুলি মানব স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং ভবিষ্যৎ চন্দ্র ও মঙ্গল মিশনের জন্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতির দিকে লক্ষ্য রাখে।
বিশেষ করে, গবেষকরা নিউমোনিয়া সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া কীভাবে দীর্ঘমেয়াদী হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে তা পরীক্ষা করবেন। এই ধরনের গবেষণা মহাকাশে দীর্ঘ সময় কাটানো মহাকাশচারীদের হৃদয় স্বাস্থ্যের রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ।
অন্য একটি গবেষণায় মহাকাশে শারীরিক গঠন কীভাবে রক্তপ্রবাহকে প্রভাবিত করে তা বিশ্লেষণ করা হবে। শূন্যমাধ্যাকর্ষণে রক্তের প্রবাহের পরিবর্তন মানবদেহের বিভিন্ন সিস্টেমে কী প্রভাব ফেলে, তা বোঝা ভবিষ্যৎ মিশনের নিরাপত্তা বাড়াবে।
এছাড়াও, মিশনের অংশ হিসেবে নতুন উপকরণ ও রোবোটিক সিস্টেমের পরীক্ষা করা হবে, যা চন্দ্রের বেস নির্মাণ ও মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি বিকাশে সহায়ক হবে।
NASA-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ডকিংয়ের লাইভ স্ট্রিম ১:১৫ অপরাহ্নে শুরু হবে, যেখানে দর্শকরা রিয়েল-টাইমে ক্যাপসুলের অবস্থান ও স্টেশনের সঙ্গে সংযোগের মুহূর্ত দেখতে পারবেন।
এই মিশনটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, এবং এটি ভবিষ্যৎ গবেষণা ও অনুসন্ধানের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত করবে। আপনি কি এই ধরনের মহাকাশ গবেষণার ফলাফল আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগের সম্ভাবনা সম্পর্কে ভাবছেন?



