FA Cup পঞ্চম রাউন্ডের ম্যাচে লিগ ওয়ান দলের ম্যানসফিল্ড, বার্নলির বিরুদ্ধে চমকপ্রদ জয় অর্জন করে। লুইস রিডের সঠিক ফ্রি-কিকের মাধ্যমে গেমের গতিপথ পরিবর্তন হয় এবং বার্নলির দুর্বল পারফরম্যান্সের পরিপ্রেক্ষিতে ম্যানসফিল্ডের জয় নিশ্চিত হয়।
বার্নলি, প্রিমিয়ার লিগের হ্রাসপ্রাপ্ত দল, এই মৌসুমে অবনতি ঝুঁকিতে রয়েছে এবং কাপের মাধ্যমে শেষ মুহূর্তে রেহাই পাওয়ার আশা করছিল। তবে ম্যানসফিল্ডের কঠোর পরিশ্রম এবং উচ্চতর তীব্রতা, বার্নলির ত্রুটিগুলোকে উন্মোচিত করে।
বার্নলি পূর্বের সপ্তাহে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিরুদ্ধে অপ্রত্যাশিত জয় অর্জন করলেও, এই ম্যাচে তারা নয়টি পরিবর্তন করে দল গঠন করে। ক্লাবের চেয়ারম্যান অ্যালান পেসের মতে, ভক্তদের ক্রোধকে সমর্থনে রূপান্তরিত করা দরকার, যা দলের মনোবলকে প্রভাবিত করেছে।
খেলাটির শুরুতেই অ্যাশলি বার্নসের জন্য সুযোগ তৈরি হয়। কুইলিনডশি হার্টম্যানের পাসে বার্নসের হেডারটি স্লাইড করে বাইরে যায়, যদিও কোনো প্রতিপক্ষের চাপ ছিল না। এই প্রারম্ভিক ভুলটি বার্নলির আক্রমণাত্মক ত্রুটিকে প্রকাশ করে।
প্রায় ২০ মিনিটের পর, বার্নলি প্রথম গোলের স্বাদ পায়। লাইল ফস্টার এবং লৌম চৌনা মাঝের পাসের সমন্বয়ে জশ লরেন্টের দিকে বল পৌঁছে, যিনি রক্ষক ও গোলরক্ষকের মধ্যে ফাঁকটি ব্যবহার করে সহজে স্কোর করেন। এই গোলটি ম্যাচের প্রথম অর্ধে বার্নলির অগ্রগতি নির্দেশ করে।
ম্যাচের মাঝখানে, জেমস ওয়ার্ড-প্রোউসের হোম ডেবিউ হয়। তার উপস্থিতি এবং ফ্লোরেন্টিনো লুইসের সঙ্গে সমন্বয়, স্টেডিয়ামের অর্ধ-খালি পরিবেশে স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে, তবে ভিড়ের সংখ্যা কম হওয়ায় প্রি-সিজন মত পরিবেশ দেখা যায়।
স্কট পার্কারের প্যাচওয়ার্ক দলটি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়। তৃতীয় স্তরের ম্যানসফিল্ডের বিরুদ্ধে বার্নলির খেলোয়াড়রা রিদম খুঁজে পেতে পারে না, যা তাদের আক্রমণকে সীমিত করে। লৌম চৌনা একটি ভালো সুযোগ মিস করেন, যা দলের আক্রমণাত্মক শক্তিকে আরও হ্রাস করে।
প্রায় অর্ধ ঘণ্টা পার হয়ে, বার্নস একটি পাস নিয়ন্ত্রণ করে জ্যাকব ব্রুয়েন লারসেনের দিকে পাঠায়। লারসেনের সূক্ষ্ম প্রথম স্পর্শ তাকে গোলের দিকে নিয়ে যায়, তবে শেষ পর্যন্ত তিনি গোলের দিকে অগ্রসর হতে পারেননি। এই মুহূর্তটি দুই বিভাগের পার্থক্যকে স্পষ্ট করে।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে, লুইস রিডের ফ্রি-কিকের মুহূর্ত আসে। তার নিখুঁত কিকটি সরাসরি গল পোস্টের নিচে গিয়ে ম্যানসফিল্ডকে সমতা ভাঙার সুযোগ দেয়। এই গোলটি ম্যানসফিল্ডের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং বার্নলির প্রতিরোধকে দুর্বল করে।
লুইস রিডের গোলের পর, ম্যানসফিল্ডের আক্রমণ আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। বার্নলির রক্ষকরা চাপের মধ্যে পড়ে, এবং ম্যানসফিল্ডের খেলোয়াড়রা অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি করে। যদিও ম্যাচের শেষ স্কোর স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি, তবে ম্যানসফিল্ডের জয় নিশ্চিত হয়েছে।
বার্নলির জন্য এই পরাজয় মানে মৌসুমের শেষ পর্যায়ে আরও কঠিন পরিস্থিতি। লিগে অবনতি নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে, আর কাপের মাধ্যমে রেহাই পাওয়া একমাত্র আশা। দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো, যেমন ঘাটতি এবং রোস্টার পরিবর্তন, এই ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
ম্যানসফিল্ডের কোচ দলটি এই জয়কে দলের আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করবে এবং পরবর্তী রাউন্ডে আরও শক্তিশালী পারফরম্যান্সের লক্ষ্য রাখবে। দলটি এখন লিগ ওয়ানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে, কাপের আরও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে চায়।
বার্নলির পরবর্তী ম্যাচে তারা আবার প্রিমিয়ার লিগের প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, যেখানে দলটি রক্ষণশীল কৌশল গ্রহণ করে পয়েন্ট সংগ্রহের চেষ্টা করবে। ম্যানসফিল্ডের পরবর্তী প্রতিপক্ষও লিগ ওয়ানের অন্যান্য দল, যা তাদের জয়কে ধারাবাহিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ম্যাচের পর, স্টেডিয়ামের ভক্তরা দলের পারফরম্যান্স নিয়ে মিশ্র অনুভূতি প্রকাশ করে। কিছু ভক্তের মতে, দলের মনোবল ও কৌশলগত পরিবর্তন প্রয়োজন, অন্যদিকে কিছু ভক্ত আশা করেন যে কাপের জয় দলকে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে।



