পোস্ট-নির্বাচনের পরবর্তী দুই দিনের মধ্যে দেশব্যাপী সংঘাতের ঝড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর মাঠের কর্মকর্তাদের কঠোর সতর্কতা জানায়। সতর্কতা দেওয়া হয়েছে যে, যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা দেখা দেয়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি আরোপ করা হবে।
গত ৪৮ ঘণ্টায় মুন্সিগঞ্জ, নড়াইল ও শ্রীনগরসহ বিভিন্ন জেলায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাগুলো নির্বাচন-পরবর্তী উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ঘটেছে এবং স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মুন্সিগঞ্জের চর আবদুল্লাহ গ্রামে ধানের শীষের সমর্থকদের বিরোধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক জসিম উদ্দিন নায়েব (৩০) নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, নায়েবকে দলগতভাবে পিটিয়ে পরে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে নড়াইল ও শ্রীনগরে পৃথক সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছে, যার মধ্যে নারীও অন্তর্ভুক্ত। আহতদের মধ্যে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্তদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসা চলছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মৌখিক ও ভার্চুয়াল দু’ধরনের সতর্কবার্তা পাঠায়। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা পেশাগত গাফিলতি হিসেবে গণ্য হবে।
সদর দপ্তরের নির্দেশে, যদি কোনো কর্মকর্তা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন, তবে তাকে বিভাগীয় শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। শাস্তির মধ্যে পদোন্নতি বন্ধ, দায়িত্বহীনতা এবং অন্যান্য শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
নির্বাচনের কয়েক দিন আগে থেকেই বাংলাদেশ পুলিশ কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। এই পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়ায় মাঠের কর্মকর্তাদের কার্যক্রম, নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়।
একজন ডিআইজি জানান, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পূর্বে জেলা পুলিশ সুপারintendents-কে সম্ভাব্য প্রতিহিংসামূলক হামলা ও সংঘাত রোধে আগাম প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি জেলা পর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।
বিশৃঙ্খলা রোধে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে জরুরি মোবাইল ইউনিট, স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত।
শনি, ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টায় বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) হেমন্ত মোহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন স্ট্রিমকে জানায় যে, পোস্ট-নির্বাচন সময়ে সম্ভাব্য উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা কার্যকর করা হচ্ছে।
এই পরিকল্পনার মূল অংশ হিসেবে নিয়মিত টহল বাড়ানো, মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা এবং গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রাখা অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত হস্তক্ষেপের জন্য অতিরিক্ত সংস্থানও মোতায়েন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশ কর্মকর্তারা বর্তমানে এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুসারে কাজ করছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি নিশ্চিত করতে তৎপরতা বজায় রেখেছেন। ভবিষ্যতে কোনো নতুন ঘটনা ঘটলে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সামগ্রিকভাবে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা বজায় রাখতে বাংলাদেশ পুলিশ কর্তৃপক্ষের সতর্কতা ও পদক্ষেপগুলোকে গুরুত্ব সহকারে অনুসরণ করা হচ্ছে এবং সকল স্তরের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তৎপরতা ও দায়িত্বশীলতা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



