17 C
Dhaka
Sunday, February 15, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনইসরায়েলি পরিচালক অ্যানাট ইভেনের ‘কোলাপ্স’ ডকুমেন্টারি গাজা যুদ্ধের পরিণতি তুলে ধরে

ইসরায়েলি পরিচালক অ্যানাট ইভেনের ‘কোলাপ্স’ ডকুমেন্টারি গাজা যুদ্ধের পরিণতি তুলে ধরে

ইসরায়েলি চলচ্চিত্র নির্মাতা অ্যানাট ইভেনের নতুন ডকুমেন্টারি ‘কোলাপ্স’ (ফরাসি শিরোনাম Effondrement) গাজা অঞ্চলের যুদ্ধের পরবর্তী দুই বছরের ধ্বংসাবশেষকে ইসরায়েল সীমান্তের দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করেছে। চলচ্চিত্রটি ২০২৩ অক্টোবর ৭ তারিখে হামাসের ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর আক্রমণের পরপরই শুরু হওয়া সামরিক সংঘর্ষের পরিণতি বিশ্লেষণ করে। বের্লিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ফোরাম বিভাগে প্রিমিয়ার হওয়া এই কাজটি ১ ঘণ্টা ১৮ মিনিটের দৈর্ঘ্য নিয়ে দর্শকদের সামনে উপস্থাপিত হয়েছে।

২০২৩ অক্টোবর ৭ তারিখে হামাসের আক্রমণে ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ঘটে, যা পরবর্তীতে ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনী (আইডিএফ) গাজা উপত্যকায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ ও ভূমি অভিযান চালায়। এই প্রতিক্রিয়ায় দশ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনীয়ের মৃত্যু এবং গাজা শহরের বিশাল ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। যুদ্ধের এই ধারাবাহিকতা এবং মানবিক ক্ষতি বহু আন্তর্জাতিক নথিতে রেকর্ড হয়েছে।

গত দুই বছর জুড়ে গাজা যুদ্ধকে নিয়ে বিভিন্ন ডকুমেন্টারি প্রকাশিত হয়েছে, যেমন ‘American Doctor’, ‘Holding Liat’, ‘A Letter to David’ এবং ‘Of Dogs and Men’ ইত্যাদি। তবে অ্যানাট ইভেনের ‘কোলাপ্স’ পূর্বের কাজগুলোর তুলনায় অধিক গম্ভীর ও নিরাশাজনক স্বর বজায় রাখে, যা ইসরায়েলি সমাজের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনকে উন্মোচন করে।

অ্যানাট ইভেন, যিনি নিজে নীর ওজ kibbutz-এ বড় হয়েছেন, তার পরিবার ও বন্ধুদের ক্ষতি দেখার পর ক্যামেরা হাতে নিয়ে দুই বছরের সময়কালে সংঘটিত ধ্বংসাবশেষ ও মানবিক কষ্টের নথি সংগ্রহ করেন। তিনি যুদ্ধের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, নিজের জীবনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশকে নথিভুক্ত করার মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ চিত্র তুলে ধরতে চেয়েছেন।

চিত্রায়নটি নীর ওজ kibbutz এবং নেগেভ মরুভূমির পার্শ্ববর্তী এলাকায় কেন্দ্রীভূত, যেখানে গাজা সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত গ্রামগুলোতে যুদ্ধের ছায়া সর্বদা উপস্থিত। ইভেনের ক্যামেরা এই স্থানগুলোতে ঘন ঘন উপস্থিত হয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি, ধোঁয়ায় ঢাকা আকাশ এবং বেঁচে থাকা মানুষের মুখে অশ্রু ধারণ করে।

‘কোলাপ্স’ চলচ্চিত্রটি যুদ্ধের ধারাবাহিকতা ও তার অমীমাংসিত প্রকৃতিকে ‘একটি শেষহীন দুর্যোগ’ হিসেবে চিত্রিত করে। ইভেনের বর্ণনা সরাসরি, কোনো অতিরিক্ত রঙিন ভাষা ছাড়াই, বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে গঠিত, যা দর্শকের কাছে কাঁচা সত্য উপস্থাপন করে।

চিত্রের শুরুতে হাঙ্গেরীয় লেখক ও হোলোকাস্ট বেঁচে থাকা ইমরে কের্তেজের উক্তি দেখা যায়, যেখানে গাজায় আইডিএফ বোমা বিস্ফোরণের দৃশ্যের ওপর টেক্সটটি ওভারলে করা হয়েছে। উক্তির শেষাংশে “তবু আমরা এ সবকে উদাসীনভাবে দেখেছি” বলা হয়েছে, যা চলচ্চিত্রের মূল থিম—যুদ্ধের প্রতি অবহেলা ও অস্বীকার—কে সূচিত করে।

চলচ্চিত্রের স্ক্রিনরাইটিং কাজ অ্যানাট ইভেনের পাশাপাশি আরিয়েল সিপেল এবং ওরন আদার সম্পন্ন করেছেন। তাদের যৌথ প্রচেষ্টা চলচ্চিত্রের বর্ণনাকে কাঠামোগতভাবে সংহত করেছে, যাতে দর্শকরা যুদ্ধের জটিলতা ও মানবিক দিক উভয়ই অনুভব করতে পারেন।

বের্লিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ফোরাম বিভাগে এই কাজের প্রিমিয়ার ইসরায়েলি ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচকদের দৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হওয়ার মাধ্যমে ‘কোলাপ্স’ গ্লোবাল দর্শকের কাছে গাজার যুদ্ধের মানবিক দিকটি নতুন আলোকে উপস্থাপন করার সুযোগ পেয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, ‘কোলাপ্স’ গাজা যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতকে এক অমলিন, নির্ভীক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করে। চলচ্চিত্রটি কোনো রোমান্টিক বর্ণনা নয়; বরং এটি একটি কঠোর, বাস্তববাদী বিশ্লেষণ, যা যুদ্ধের পরিণতিতে আক্রান্ত মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কষ্টকে সরাসরি তুলে ধরে। দর্শকদের জন্য এটি একটি চিন্তাশীল অভিজ্ঞতা, যা গাজার ভবিষ্যৎ ও শান্তি সন্ধানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে গভীরভাবে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Hollywood Reporter – Movies
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments