গিনি-বিসাউতে পরিকল্পিত একটি ইউএস-সহায়িত হেপাটাইটিস বি টিকাদান গবেষণা, যা হাজারো নবজাতককে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিল, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক অনৈতিক বলে চিহ্নিত হয়ে স্থগিত করা হয়েছে। গবেষণাটি দুইটি দলকে ভাগ করে একদলকে জন্মের সঙ্গে সঙ্গে টিকা দিতে, অন্যদলকে ছয় সপ্তাহ পরে দিতে চেয়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শুক্রবার প্রকাশিত বিবৃতিতে এই পরিকল্পনা সম্পর্কে “গুরুতর উদ্বেগ” প্রকাশ করে এবং এটিকে মানব গবেষণার আন্তর্জাতিক মানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করেছে।
গবেষণার মূল ধারণা ছিল টিকার বিস্তৃত স্বাস্থ্যের প্রভাব বিশ্লেষণ করা, যা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিভাগে রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র নেতৃত্বাধীন দল চালু করেছিল। তবে টিকাটি ইতিমধ্যে ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে ১১৫টিরও বেশি দেশে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এর কার্যকারিতা ব্যাপকভাবে প্রমাণিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উল্লেখ করেছে যে, জন্মের সঙ্গে সঙ্গে টিকা প্রদান করা একটি “কার্যকর এবং অপরিহার্য জনস্বাস্থ্য হস্তক্ষেপ”।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে যে, প্রমাণিত জীবনরক্ষাকারী টিকাটি কিছু শিশুকে প্রদান না করে অন্যদের বাদ দেওয়া তাদেরকে “অনির্বচনীয় ক্ষতির” মুখে ফেলতে পারে। গিনি-বিসাউতে হেপাটাইটিস বি সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্য, এবং গবেষণায় দেখা গেছে যে জন্মের সঙ্গে সঙ্গে টিকাদান করলে মা থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমণ ৭০ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।
টিকার কার্যকারিতা সত্ত্বেও, গবেষণায় প্লাসেবো বা অ-চিকিৎসা গ্রুপের ব্যবহার শুধুমাত্র তখনই ন্যায়সঙ্গত যখন কোনো প্রমাণিত চিকিৎসা না থাকে। হেপাটাইটিস বি জন্ম-ডোজ টিকাটি ইতিমধ্যে প্রমাণিত হওয়ায়, এই নীতি অনুসারে গবেষণাটি নৈতিক মানদণ্ডে ব্যতীত বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রায় দিয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সব নবজাতককে জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হেপাটাইটিস বি টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেয়। কারণ জন্মের সঙ্গে সঙ্গে সংক্রমণ হলে শিশুর ৯০ শতাংশই দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ার হয়ে যায়, যা ভবিষ্যতে গুরুতর যকৃতের রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। গিনি-বিসাউতে বর্তমানে টিকাটি ছয় সপ্তাহে দেওয়া হয়, তবে সরকার ২০২৮ সালের মধ্যে জাতীয় স্তরে জন্ম-ডোজ টিকাদান চালু করার পরিকল্পনা করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই লক্ষ্যকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
গবেষণায় অংশগ্রহণের জন্য প্রায় ১৪,০০০ নবজাতককে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল, তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তীব্র বিরোধের পর প্রকল্পটি অবিলম্বে বন্ধ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিভাগ, যা রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রের নেতৃত্বে টিকার বিস্তৃত স্বাস্থ্যের প্রভাব সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়েছিল, এখন এই গবেষণার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য।
এই ঘটনার পর গিনি-বিসাউ সরকার এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যের সংস্থাগুলি টিকাদানের নৈতিক মানদণ্ড ও বৈজ্ঞানিক ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে পুনরায় আলোচনা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন যে, প্রমাণিত টিকাকে কোনো গবেষণার অংশ হিসেবে বাদ দেওয়া না শুধুমাত্র শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য, বরং জনস্বাস্থ্যের সামগ্রিক সুরক্ষার জন্যও অপরিহার্য।
গিনি-বিসাউতে হেপাটাইটিস বি টিকাদানের সময়সূচি পরিবর্তন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ মেনে চলা, ভবিষ্যতে অনুরূপ নৈতিক বিরোধ এড়াতে সহায়তা করবে। রোগের বিস্তার রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখা, উভয়ই দেশের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি।



